মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু হামলার ছক কষছেন ট্রাম্প? ইরানের হুঁশিয়ারি: তৃতীয় শাস্তি হবে ঐতিহাসিক! অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ভেতর ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে, যুদ্ধের ছায়ায় ২০২৮ সালের নির্বাচন বাতিল করে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান তিনি! তাইওয়ানের চৌদ্দশ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি স্থগিত, চীনের ভয়ে পিছু হটল আমেরিকা? আর গাজায় ত্রাণবাহী জাহাজে ইসরায়েলের হামলায় ইউরোপীয় নাগরিকদের আটকের ঘটনায় কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে এক অভাবনীয় যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের ওপর বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে বিশ্বব্যাপী তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এখন এমন এক স্পর্শকাতর মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
গত বাইশে মে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শীর্ষ সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের এবং জরুরি বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান জন র্যাটক্লিফ অন্যতম। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল ইরানকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা আন্দাজ করা যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থেকে। তিনি নিউ জার্সিতে তার পূর্বনির্ধারিত গলফ মাঠ পরিদর্শনের সূচি সম্পূর্ণ বাতিল করেছেন এবং নিজের জ্যেষ্ঠ পুত্রের বিবাহ অনুষ্ঠানে পর্যন্ত উপস্থিত না থেকে হোয়াইট হাউসে অবস্থান করছেন। মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের সমস্ত ছুটি বাতিল করে ওয়াশিংটনে ২৪ ঘণ্টা অ্যালার্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা একটি আসন্ন যুদ্ধের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করতে না পারে, সেজন্য মার্কিন প্রশাসন একটি চূড়ান্ত এবং নিষ্পত্তিমূলক সামরিক সমাপ্তি টানতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা টেবিলে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে ইরানকে আরেকটি বড় আঘাত করা হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য আগ্রাসনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। ইরানের সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণতি হবে কল্পনাতীত ভয়াবহ। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা যেকোনো ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপকে কঠোর হস্তে দমন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
ইরানের বিখ্যাত তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির শীর্ষ সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের বোকামির জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এবার তারা নতুন রণকৌশল, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং আমেরিকার নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে। ইরানি সামরিক কমান্ডারদের মতে, বিগত এক বছরের মধ্যে এটি হবে আমেরিকার জন্য তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় ধরনের ঐতিহাসিক ও নির্মম শাস্তি।
আইআরজিসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এক ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এবারের যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হয়, তবে এই যুদ্ধ দূরবর্তী অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে এবং আমেরিকার এমন সব গোপন ঘাঁটিতে আঘাত হানা হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারছে না। ইরানি কমান্ডাররা স্পষ্ট বলেছেন, তারা বাগাড়ম্বরে বিশ্বাসী নন, বরং যুদ্ধের মাঠেই নিজেদের শক্তির চূড়ান্ত প্রমাণ দেবেন।
এই চরম উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং একটি সম্ভাব্য বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইতিমধ্যে আকস্মিকভাবে তেহরান সফর করেছেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মুহূর্তে কোনো সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা অনেক দূরে, কারণ ওয়াশিংটন তাদের আগ্রাসী মনোভাব ত্যাগ করেনি।
এদিকে ইরানের সম্ভাব্য বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হচ্ছে। ন্যাটোর অংশ হিসেবে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আগামী জুন মাস থেকে দীর্ঘ ছয় মাসের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
এর আগে গত মার্চ মাসেও ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় ওই অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল, যা যুদ্ধকালীন সময়ে ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা চারটি শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল। একই সময়ে জর্ডানের আকাশসীমায় একটি অজ্ঞাত ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তাহীনতা ও আকাশযুদ্ধের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ইরাকের অভ্যন্তর থেকে সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে রহস্যময় ড্রোন উৎক্ষেপণের ঘটনাও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই মুখোমুখি অবস্থান এবং যুদ্ধের তীব্র দামামা বিশ্ববাসীকে এক নতুন এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তবে এই যুদ্ধের আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ঘটছে এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যা মার্কিন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
এবার আসা যাক ওয়াশিংটনের সেই বিস্ফোরক খবরে। মার্কিন সংবিধানে চরম আঘাত হেনে ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া বা সম্পূর্ণ বাতিলের পরিকল্পনা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এক সময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র, উগ্র ডানপন্থী সাবেক আইনপ্রণেতা মার্জোরি টেইলর গ্রিনের এমন মন্তব্যে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা ট্রাম্পের স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতাকে প্রকাশ করে।
সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে মার্জোরি টেইলর গ্রিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধকে একটি চমৎকার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে ২০২৮ সালের সাধারণ নির্বাচন স্থগিত বা সম্পূর্ণ বাতিল করার পথে হাঁটতে পারেন ট্রাম্প। এই চাঞ্চল্যকর দাবির পর হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের অভ্যন্তরে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
উগ্র ডানপন্থী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অ্যালেক্স জোন্সের সাথে এক দীর্ঘ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মার্জোরি টেইলর গ্রিন জানান, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কথোপকথন তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে ইউক্রেনে কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং জেলেনস্কি এখনো ডিক্রি জারি করে ক্ষমতায় টিকে আছেন।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে ট্রাম্প যখন জেলেনস্কির কাছ থেকে জানতে পারেন যে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত বিস্ময় প্রকাশ করেন। গ্রিনের দেওয়া তথ্যমতে, ট্রাম্প তখন কুটিল হাসিমুখে মন্তব্য করেছিলেন যে, "তবে কি যুদ্ধ পরিস্থিতি চললে দেশে নির্বাচন স্থগিত রাখা সম্ভব?" গ্রিন দাবি করেন, ট্রাম্প সে সময় বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করলেও তার চোখে-মুখে এক গভীর উদ্দেশ্য পরিলক্ষিত হয়েছিল।
ইউক্রেনের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, দেশে সামরিক আইন জারি থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বৈধতা নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ও সংবিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্জোরি টেইলর গ্রিন যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জনসভায় এবং সংবাদ সম্মেলনে দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকা কিংবা নির্বাচন স্থগিত করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে যেভাবে কথা বলছেন, তা কোনো সাধারণ রসিকতা নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে মার্কিন জনগণের মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। ট্রাম্প বারবার এই বিতর্কিত ধারণাটি জনসমক্ষে এনে এটিকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন এবং দেখতে চাচ্ছেন যে দেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহল এতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। গ্রিন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই তৃতীয় মেয়াদের জন্য কারোর প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো আইনি সুযোগ সংবিধানে নেই।
আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মার্কিন সংবিধানের বিখ্যাত ২২তম সংশোধনী। এই ঐতিহাসিক সংশোধনী অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না। তবে এই স্পষ্ট সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন।
ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নেভাদার লাস ভেগাসে আয়োজিত এক বিশাল দলীয় সমাবেশে ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে, একবার বা দুইবার নয়, বরং তিনবার বা চারবার দেশের সেবা করতে পারাটা হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। এর কিছুদিন পর ফ্লোরিডায় আয়োজিত রিপাবলিকান পার্টির এক বিশেষ সম্মেলনে তিনি কৌতুকের ছলে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জানতে চান যে, তার কি আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো আইনি অধিকার আছে?
এমনকি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটনে আয়োজিত জাতীয় প্রাতরাশ প্রার্থনা সভায় ট্রাম্প তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন যে, মার্কিন জনগণের স্বার্থে তার আরও একবার নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত কি না। সে সময় উপস্থিত সমর্থকরা সমস্বরে "আরও চার বছর" স্লোগান দেয়। যদিও ট্রাম্প পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন যে, মার্কিন সংবিধানে তৃতীয় মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা পরিবর্তন করা অসম্ভব রাজনৈতিক লড়াই, যা সহজে সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধন করতে হলে দেশটির আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। এরপর দেশের অন্তত তিন-চতুর্থাংশ অঙ্গরাজ্যের আইনসভা কর্তৃক তা অনুমোদিত হতে হয়। বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক মেরুকরণের যুগে এই ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কার্যত অসম্ভব। এই আইনি জটিলতার কারণেই সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন ট্রাম্প বৈধ পথ বাদ দিয়ে যুদ্ধের পথ বেছে নেবেন।
আমেরিকার এই অভ্যন্তরীণ সংকটের মাঝেই এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ঘটেছে আরেক বড় বিপর্যয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরপরই তাইওয়ানের সাথে আমেরিকার বিশাল অস্ত্র চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা এসেছে, যা বেইজিংয়ের যুদ্ধের হুমকির মুখে এশীয় অঞ্চলে নতুন সামরিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। আমেরিকান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের কাছে চৌদ্দশ কোটি ডলারের একটি বিশাল সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে।
যদিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন সামরিক রসদ সংরক্ষণের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরপরই এই সিদ্ধান্ত আসায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিলেন যে, তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত দুই পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে, যার ভয়ে ওয়াশিংটন পিছু হটেছে।
এরই মধ্যে তাইওয়ান প্রণালীর অপর প্রান্তে চীনের সামরিক প্রস্তুতি এবং যুদ্ধংদেহী মনোভাব দিন দিন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক ছবিতে দেখা গেছে, চীন তাইওয়ান প্রণালীর কাছাকাছি তাদের অন্তত ছয়টি বিমান ঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ পুরানো শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী যুদ্ধবিমানকে চালকবিহীন বোমারু ড্রোনে রূপান্তরিত করে মোতায়েন করেছে। প্রায় দুই শতাধিক এই ড্রোন অলরেডি ফুজিয়ান এবং গুয়াংডং প্রদেশের কৌশলগত ঘাঁটিতে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, গাজা অভিমুখে রওনা হওয়া ত্রাণ বহরের মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলের অবমাননাকর আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় নাগরিকদের সহ আটককৃত সকল কর্মীর মর্যাদা রক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে দ্রুত তাদের মুক্তি দিতে তেল আবিবের প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় ইসরায়েলের চরমপন্থী মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি নিয়ে ইউরোপে আলোচনা শুরু হয়েছে।
