মাত্র কয়েক দশক আগেও ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছিল জাতীয় পরিচয়ের অংশ। রাজনীতি, শিক্ষা ও মিডিয়ায় ইসরায়েলের পক্ষে থাকা যেন সাধারণ মূল্যবোধের অংশ ছিল মার্কিন সমাজে।
কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব দ্রুত বাড়ছে। জরিপ, গবেষণা ও সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণ বলছে—তরুণ মার্কিনিদের মন থেকে ইসরায়েলের প্রতি ভালোবাসা ফিকে হয়ে গেছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হার্ভার্ড-হ্যারিস জরিপে দেখা যায়, ১৮-২৪ বছর বয়সীদের অনেকেই মনে করেন, গাজার সংকটের সমাধান ইসরায়েলের অবসান ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্ভব। এটা কেবল মতামতের পরিবর্তন নয়—এটা রাজনৈতিক ও নৈতিক জাগরণ।
২০২৪ সালের এপ্রিলের পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ জানায়, ১৮-২৯ বছর বয়সী মাত্র ১৪% তরুণ ইসরায়েলকে সমর্থন করেন, আর ৩৩% প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সামাজিক মাধ্যমের বাস্তব চিত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন সত্যের সরাসরি জানালা। মৃত শিশু, বিধ্বস্ত বাড়িঘর, অসহায় মায়ের কান্না—এইসব ছবি মার্কিন তরুণদের চোখ খুলে দিয়েছে। মিডিয়ার একতরফা প্রচারণা আর আগের মতো তাদের প্রভাবিত করতে পারছে না।
ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব বা টুইটারে গাজা ও অধিকৃত অঞ্চল থেকে আসা ভিডিও ও ছবি সরাসরি তরুণদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। তারা আর প্রচলিত মিডিয়ার ফিল্টারড বিবরণে সন্তুষ্ট নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এই প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলন, ধর্মঘট ও বিক্ষোভ হচ্ছে। এমনকি তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন আগের চেয়ে অনেক কম।
এই পরিবর্তন শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত, প্রতি মাসে গড়ে ২,০০০ ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে বিশ্বজুড়ে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে রয়েছে ইয়েমেনের পর।
মার্কিন জনসমর্থন বরাবরই ইসরায়েলের কৌশলগত শক্তির প্রধান ভিত্তি ছিল। এখন সেই ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। তরুণদের সচেতনতা, মিডিয়া-প্রভাবিত নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়ানো।
এই নতুন প্রজন্ম আর প্রচারণা নয়, সত্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইসরায়েলের প্রতি তাদের আগের ভালোবাসা আজ আর দেখা যাচ্ছে না। বিবেকবান এক প্রজন্ম এখন নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।