মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারত ও ব্রাজিলের উপর একযোগে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে বাণিজ্য যুদ্ধের আঁচ আরও বাড়িয়েছেন, ঠিক তখনই কূটনৈতিক ময়দানে নতুন এক চমক! বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা।

সূত্রের খবর, প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে কথা হয় দুই নেতার মধ্যে। শুধু সৌজন্য নয়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ট্রাম্পের শুল্কবাণের পরবর্তী প্রভাব, পাশাপাশি ভবিষ্যতের কৌশলগত সহযোগিতা।

মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে (আগের টুইটার) লেখেন, “ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণের দেশগুলো এতে উপকৃত হবে।”

অন্যদিকে লুলা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়াবে—এই লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতির জেরে সারা বিশ্বের অর্থনীতির উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেই নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়।

শুধু ফোনালাপেই থেমে নেই ব্রাজিল-ভারতের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ। জানা গিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতেই লুলা ভারতে সফরে আসতে পারেন। সে সময়ে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হতে পারে।

ট্রাম্পের আচরণে ক্ষুব্ধ লুলা কিছুদিন আগেই সাফ জানিয়েছিলেন, তিনি আমেরিকার সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনও আলোচনায় আগ্রহী নন। বরং মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একত্রে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী। তার স্পষ্ট ইঙ্গিত—ব্রিকস গোষ্ঠীকে আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

উল্লেখ্য, ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীতে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, চিন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, এবং নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। রিও ডি জেনেইরোতে সদ্য শেষ হওয়া ব্রিকস সম্মেলনে এই নতুন সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং জোটের বিস্তারে অস্বস্তিতে পড়েছেন ট্রাম্প।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপ শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়—এটি আমেরিকাকে এক প্রকার কৌশলগত বার্তা। মোদি-লুলা জোট হলে বিশ্ব অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে।

Walton Ads