আমেরিকার সঙ্গে টানটান শুল্ক সংঘাতের মাঝেই চিন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি যোগ দেবেন চিনের তিয়ানজিনে আয়োজিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে। গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটাই মোদির প্রথম চিন সফর।
এই সফর ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসিয়েছেন, যা নিয়ে সরব হয়েছে বেজিং। এবার সেই শুল্ক যুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন।
এই পরিস্থিতিতে মোদির চিন সফর নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে বেজিং। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, “এসসিও তিয়ানজিন শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাই। আমাদের বিশ্বাস, এই সম্মেলন ঐক্য, বন্ধুত্ব এবং সুনির্দিষ্ট ফলাফলের প্রতীক হয়ে উঠবে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সমালোচনায় সরব হয়েও ভারতের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছে চিন। বেজিংয়ের বার্তা— আমেরিকার আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ভারত ও চিন একসঙ্গে বিশ্বকে হাতি ও ড্রাগনের নাচ দেখাক।
চিনের নয়াদিল্লি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং ট্রাম্পকে সরাসরি 'মস্তান' আখ্যা দিয়ে বলেন, “মস্তানকে এক ইঞ্চি জমি দিলে মাইল দখল করে নেবে।” তিনি আরও জানান, “শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে তা জাতিসংঘের বাণিজ্যনীতির বিরোধী। এটা স্থায়ী হতে পারে না।”
যদিও চিনের এই বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা অনেকের কাছেই সন্দেহজনক। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে মোকাবিলার কৌশল হিসেবেই চিন ভারতকে পাশে টানার চেষ্টা করছে।
ভারতের সঙ্গে একাধিক সীমান্ত বিরোধ এবং গালওয়ান সংঘাতের পর সম্পর্কের বরফ এখনও পুরোপুরি গলেনি। তবুও বেজিংয়ের এমন উষ্ণ বার্তা নজর কাড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সফর শুধু SCO সম্মেলন নয়, বরং অনেক বড় কূটনৈতিক খেলাও লুকিয়ে আছে এর পেছনে।
চিন ইতিমধ্যেই বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। আর সেই লক্ষ্যেই আপাত ‘বন্ধুত্ব’ দিয়ে নয়াদিল্লিকে পাশে চায় তারা। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
মোদির এই সফর শেষ পর্যন্ত কী বার্তা দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।