আমেরিকার সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ তুঙ্গে, আর সেই উত্তেজনার মাঝেই সরাসরি ফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবারের এই দীর্ঘ আলোচনায় রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতাসহ নানা ইস্যু উঠে এসেছে। আলোচনার শেষে মোদি চলতি বছরের শেষের দিকে পুতিনকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত জানান পুতিন। এরপর এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতি দিয়ে মোদি লেখেন, “আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আপডেট দেওয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি এবং ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি। এ বছরের শেষের দিকে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছি।”

এই ফোনালাপের সময়ই মস্কো সফরে ছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। তবে সময়টা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ এর ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ‘শাস্তি’ স্বরূপ ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে ডোভালের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার সঙ্গে তেল আমদানি নিয়ে একটি বড় চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে মস্কো ভারতের জন্য আরও ছাড় দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার শুল্ক সিদ্ধান্তের পর রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—কোনও বিদেশি চাপেই ভারত-রুশ সম্পর্ক দুর্বল হবে না। বরং মস্কো এখন বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে চাইছে।

Walton Ads