মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামলানোর ‘গোপন মন্ত্র’ নাকি তাঁর হাতেই আছে—এমনটাই দাবি করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আর সেই পরামর্শ গোপনে দিতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কবোমার পর এমন মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—তাহলে কি খুব শিগগিরই নয়াদিল্লিতে পা রাখবেন নেতানিয়াহু?

নেতানিয়াহু বলেন, “ট্রাম্প আর মোদি—দু’জনেই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ট্রাম্পকে কীভাবে সামলাতে হয়, সেটা আমি জানি। সেই বিষয়েই আমি মোদিকে কিছু বিশেষ পরামর্শ দিতে চাই, তবে তা গোপনে।” তিনি আরও জানান, তাঁর ইচ্ছা আছে শিগগিরই ভারত সফরে আসার।

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক যথেষ্ট মজবুত, তাই দুই দেশেরই উচিত শুল্ক সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা। তাঁর ভাষায়, “নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা দরকার। এতে আমাদেরও উপকার হবে, কারণ ভারত ও আমেরিকা দু’জনেই ইজরায়েলের বন্ধু।”

এখানেই থামেননি নেতানিয়াহু। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের আগে ইজরায়েল ভারতকে যে সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছিল, সেগুলো সবই কার্যকর ছিল। অপারেশনের পর সেটার প্রমাণ মিলেছে।”

প্রসঙ্গত, গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন—রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করায় ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। ফলে মোট শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পরেই ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বক্তব্য, বাজারের অবস্থা এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানির চাহিদা মাথায় রেখে তেল আমদানি করা হয়। অন্য বহু দেশ নিজেদের স্বার্থে একই কাজ করলেও আমেরিকা শুধু ভারতকেই নিশানা করছে, যা “অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অন্যায়।”

এই টানটান পরিস্থিতিতেই মধ্যস্থতায় নামলেন নেতানিয়াহু, যিনি নিজেকে দুই দেশেরই বন্ধু হিসেবে দাবি করে সংঘাত কমানোর বার্তা দিলেন।

Walton Ads