ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা কমেনি। আমেরিকা থেকে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পরমাণু হুঁশিয়ারির পর এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো। তাঁর দাবি— ভারত যদি সিন্ধু নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে, তবে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। শুধু তাই নয়, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— পাকিস্তান ভারতের ৬টি নদী দখল করবে।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করা। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সিন্ধুতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এই ঘোষণা ঘিরেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন,
“যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিন্ধু নদীর প্রবাহে হস্তক্ষেপ করেন, তবে তা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর সরাসরি আঘাত হবে। পাকিস্তানের জনগণের ক্ষমতা আছে ভারতের মোকাবিলা করার। যুদ্ধ বাঁধলে আমরা শুধু সিন্ধুই নয়, তার সব উপনদীর দখল নেব।”
এমন হুঁশিয়ারি এল এমন সময়ে, যখন আমেরিকার ফ্লোরিডায় এক নৈশভোজে দাঁড়িয়ে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও সরাসরি হুমকি দেন। তিনি বলেন,
“আমরা পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি মনে হয় ধ্বংসের পথে যাচ্ছি, তবে অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংস হব। ভারত যদি বাঁধ তৈরি করে, শেষ হলে ১০টি মিসাইল ছুড়ে তা উড়িয়ে দেব। সিন্ধু শুধু ভারতের নয়, পাকিস্তানেরও। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব নেই।”
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী বিতস্তা ও চন্দ্রভাগার ৮০% জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের, আর ভারতের ২০%। তবে চুক্তি অনুযায়ী, ভারত জল ব্যবহার করলেও প্রবাহ আটকাতে পারবে না। দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লি এই চুক্তি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিল। গত বছর সেপ্টেম্বরেই ভারত ইসলামাবাদকে এ নিয়ে কড়া নোটিস পাঠায়।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের কাছে যুদ্ধ ঘোষণার সমান। এবার সেই একই ইস্যুতে বিলাওয়াল ভুট্টোর যুদ্ধ ঘোষণামূলক মন্তব্য দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল। তবে ভারত এই হুমকিকে পাত্তা দিতে নারাজ। এখন দেখার বিষয়— নদীর এই জলরেখা কোথায় গিয়ে থামে।