বার্লিন: জার্মানিতে এক মার্কিন কনট্রাক্টরকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মান প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোপন তথ্য চীনের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
জার্মান গোপনীয়তা আইনের কারণে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাকে “মার্টিন ডি” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৪-এ ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, জার্মান ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিসের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে। তখন থেকেই তিনি প্রি-ট্রায়াল হেফাজতে আছেন, জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রসিকিউটরদের মতে, বয়স তিরিশের কোঠায় থাকা মার্টিন ডি ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক বেসামরিক কনট্রাক্টরের হয়ে কাজ করেছেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি জার্মানির হেসেন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৪ সালে তিনি নাকি একাধিকবার চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, গোপন সামরিক তথ্য সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে। তবে গ্রেপ্তারের আগে তিনি কোনো তথ্য হস্তান্তর করতে সক্ষম হননি বলে জানিয়েছে পলিটিকো, জার্মান গণমাধ্যমের বরাতে।
প্রসিকিউটরদের বিবৃতিতে বলা হয়, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো— তিনি নিজেকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এজেন্ট হিসেবে প্রস্তাব করেছেন।”
গত ১৩ আগস্ট কোবলেনজের হায়ার রিজিওনাল কোর্টের স্টেট সিকিউরিটি সেনেটে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এখন আদালত ঠিক করবে মামলা ট্রায়ালে যাবে কি না।
এদিকে একই সময়ে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছিলেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের DHL লজিস্টিকস হাবে হওয়া বিস্ফোরণের পেছনে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দাদের হাত রয়েছে কি না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে একাধিকবার চীনের সঙ্গে যুক্ত গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা সামনে এসেছে। টার্গেট ছিল আইনপ্রণেতা, লজিস্টিকস সেন্টার থেকে শুরু করে সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিফেন্স ইনোভেশন ইউনিট (DIU) এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। এর আওতায় তাইওয়ান ও জাপানসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোন ও দ্বৈত ব্যবহারের সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে জোর দিচ্ছে।