ভারত-মার্কিন শুল্ক টানাপোড়েন আরও তীব্র হওয়ার মাঝেই বড়সড় মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। রাশিয়া থেকে তেল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার কারণে নয়াদিল্লির ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ জরিমানা চাপানোর পর তিনি ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র, আর আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। শেষ পর্যন্ত আমরা একসাথে আসবই।”
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি এখনো হয়নি। বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ভারতের অবস্থান অনেকটা ‘performative’। তিনি আশা করেছিলেন মে-জুনের মধ্যেই চুক্তি হয়ে যাবে, কিন্তু ভারত খুব হিসেবি ও সতর্কভাবে এগোচ্ছে।
তার ভাষায়, “লিবারেশন ডে’র পর ভারত খুব দ্রুত আলোচনা শুরু করেছিল, কিন্তু এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। আমি ভেবেছিলাম মে বা জুনে আমরা চুক্তি করতে পারব। তবে ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা নিয়েও আমাদের অস্বস্তি রয়েছে।”
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে সম্পর্ক ভালো। “এটা জটিল সম্পর্ক। তবে শীর্ষ পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া আছে,” বলেন বেসেন্ট।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হলো ঘাটতির দেশ, আর যখন বাণিজ্যে টানাপোড়েন হয় তখন ঘাটতিগ্রস্ত দেশ সুবিধায় থাকে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা বাড়তি উদ্বৃত্ত থাকা দেশের। “ভারত আমাদের কাছে বিক্রি করছে, তাদের শুল্ক অনেক বেশি, আর আমাদের ঘাটতিও অনেক বড়,” তিনি মন্তব্য করেন।
ভারত যদি রুপিতে বাণিজ্য শুরু করে তাতে তিনি কোনো হুমকি দেখছেন না। তার মতে, “আমি অনেক কিছু নিয়েই উদ্বিগ্ন থাকি, কিন্তু ভারতীয় রুপি রিজার্ভ কারেন্সি হয়ে উঠবে—এটা আমার চিন্তার বিষয় নয়। ডলারের বিপরীতে রুপি এখন রেকর্ড নিম্ন অবস্থানে।”
অন্যদিকে, নয়াদিল্লি জানিয়েছে যে তারা মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থ নিয়ে তিনি কখনোই আপস করবেন না।
জার্মান পত্রিকা Frankfurter Allgemeine Zeitung (FAZ) জানিয়েছে, শুল্ক বিরোধ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মোদি অন্তত চারবার ট্রাম্পের ফোনকল রিসিভ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি মোদির রাগের গভীরতা যেমন দেখায়, তেমনি তার কৌশলী সতর্কতারও ইঙ্গিত দেয়।