মোদি-পুতিন বৈঠকের পরই ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা লজ্জাজনক। বিশেষ করে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে মোদি যখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বসেছেন, সেটিকে তিনি অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন।

নাভারো সরাসরি বলেন, মোদি ভুল পথে হাঁটছেন। তাঁর মতে, ভারতকে অবশ্যই আমেরিকার সাথে থাকতে হবে, রাশিয়ার সাথে নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত এখনও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে, আর এই অর্থই পুতিনের যুদ্ধযন্ত্র চালানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এটাই প্রথম নয়। আগেও তিনি ভারতকে ‘মহারাজা অব ট্যারিফস’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, ভারতের শুল্ক বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। এর অর্ধেক সমস্যা বাণিজ্যিক বৈষম্য, আর বাকি অর্ধেক ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে। নাভারো মনে করেন, ভারত এ ব্যাপারে সবার কাছে সত্য গোপন করছে।

এমনকি তিনি ব্রাহ্মণদেরও টেনে এনেছেন সমালোচনায়। অভিযোগ করেছেন, ভারতের শীর্ষ শ্রেণি নাকি সস্তায় রুশ তেল কিনে মুনাফা করছে সাধারণ মানুষের খরচে। নাভারো আরও একধাপ এগিয়ে ভারতকে বলেছেন ‘ক্রেমলিন লন্ড্রোম্যাট’, যেখানে রুশ তেল পরিশোধন করে বেশি দামে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

তবে ভারত দৃঢ়ভাবে বলেছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা একেবারেই দরকারি। এর ফলে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে। তারা মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বাড়তি শুল্ক সম্পূর্ণ অন্যায্য। আসলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ভারত প্রথমবারের মতো ব্যাপক হারে রুশ তেল কিনতে শুরু করে, কারণ এতে খরচ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
 

news