মধ্যপ্রাচ্য এখন বিপজ্জনক এক পরিস্থিতির মুখে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেসব সংঘাত ও উত্তেজনা ইতিমধ্যেই চলছে, সেগুলো যে কোনো সময় বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে সরাসরি জড়িত হতে পারে ইসরায়েল, ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকারও উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।


ইয়েমেন:
ফিলিস্তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আশরাফ আকা মনে করেন, হুতিদের সাম্প্রতিক ঘোষণা নতুন সংঘাতের সূচনা হতে পারে। ইয়েমেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা শুধু গাজার যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকেও ব্যাহত করতে পারে।

লেবানন:
ইসরায়েলি হামলা লেবানন ও সিরিয়ার ওপর এবং মিসর ও জর্ডানের প্রতি উসকানিমূলক নীতি পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করছে। লেবানিজ লেখক মরতাদা সামাভি বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো গাজায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও লেবাননে প্রতিরোধ শক্তিকে নিরস্ত্র করা। এর ফলে দেশটি ‘উত্তপ্ত দিনগুলোর’ মুখোমুখি হতে চলেছে।

ইরান:
তেহরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হাদি ইসা দালুল জানিয়েছেন, ইসরায়েল এখনো সরাসরি ইরানের ভেতরে বড় হামলা চালাতে পারেনি; বরং তারা সীমান্ত এলাকায় ড্রোন নেটওয়ার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ওপর নির্ভর করেছে। তবে ইরান ইতিমধ্যেই এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে। তাই ইসরায়েলের বিকল্প সীমিত। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েল একা ইরানের মুখোমুখি হতে পারবে না।

গবেষক সালেহ আল-কাজউইনি মনে করেন, ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের জন্য সতর্কবার্তা, তবে লক্ষ্যই হলো পুরো অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তি ভেঙে দেওয়া।

ইরাক:
বাগদাদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মুখলিদ আল-দার্ব বলেন, ইরাকই ইরানপন্থি ফ্রন্টের সবচেয়ে দুর্বল সংযোগ। যদি ইরাক সক্রিয়ভাবে ইরানকে সমর্থন করে, তবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এর ফলে দেশের ভেতরে নিরাপত্তা ভেঙে পড়বে এবং সুপ্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

জেরুজালেম:
গবেষক হোসেইন আল-দিক মনে করেন, আসন্ন সংঘাত অতীতের যে কোনো লড়াইয়ের চেয়ে ‘বেশি সহিংস ও নির্ধারক’ হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বও টার্গেট হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইসরায়েলকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। সব ফ্রন্টে একই অস্ত্রনীতির প্রয়োগই এখন দুই দেশের কৌশল।

বিশেষজ্ঞরা একমত যে মধ্যপ্রাচ্য এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর সময় নিয়ে মতভেদ আছে। ইসরায়েলের লক্ষ্য প্রতিরোধ শক্তি ভেঙে দেওয়া এবং ইরানের লক্ষ্য আঞ্চলিক মিত্রদের ধরে রাখা। এই অবস্থায় ইরাক, লেবানন বা সিরিয়ার মতো ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সহজেই বড় শক্তির সংঘাতের ময়দানে পরিণত হতে পারে। সামান্য ভুল পদক্ষেপই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।
 

Walton Ads