ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ মানে পুরো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করা—এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছে মিশর। কায়রো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গণহারে বাস্তুচ্যুতি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তাদের ভাষায়, “এটা আমাদের জন্য একটি রেড লাইন। আমরা তা কখনোই ঘটতে দেব না।
মিশরের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হামদি লোআজা আবদেলআতি বলেন, “বাস্তুচ্যুতি মানে একটি জাতির অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাওয়া। ফিলিস্তিন ইস্যুর চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটানো। কোনো আইনগত, নৈতিক বা মানবিক ভিত্তিতেই মানুষকে তার নিজভূমি থেকে উৎখাত করা যায় না।”
সাম্প্রতিক সময়ে মিশরের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে তারা, অন্যদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য নিন্দাও জানাচ্ছে।
আবদেলআতি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে, তা কল্পনার বাইরে। সেখানে গণহত্যা চলছে, সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি—এই অভিযান কেবল আত্মরক্ষার জন্য। তবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-তে এখন তারা গণহত্যার অভিযোগে মামলার মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এটিকে বলেছেন “অপমানজনক অভিযোগ”।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর সূত্রপাত হামাসের আকস্মিক হামলা, যেখানে নিহত হয় ১,২০০ ইসরায়েলি এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
তার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৬৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী। বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে শহরের প্রায় সব অবকাঠামো, আর লাখো মানুষ পড়েছে ভয়াবহ মানবিক সংকটে।
২০২৫ সালের ১০ আগস্ট থেকে আবারও গাজা শহরে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। দাবি করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে হামাসকে নির্মূল করা হবে। বর্তমানে শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার দখল নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
অক্টোবর-নভেম্বর ২০২৩-এ ব্যাপক ধ্বংসের পরও হাজার হাজার মানুষ আবার সেই ধ্বংসস্তূপে ফিরতে বাধ্য হয়েছে—কারণ অন্যান্য এলাকাও যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়ে উঠেছে।
মিশরের কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, “এটা কোনো সামরিক লড়াই নয়, এটা একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা। বিশ্ব যদি এখনই না জাগে, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।