সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের পরমাণু শক্তি ধ্বংস করা যাবে না


ইহুদিবাদী ইসরাইল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করলো-সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের পরমাণু শক্তি ধ্বংস করা যাবে না। ইসরাইলের সামিরক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কৌশলগত পরিষদের প্রধান ড. কামাল খাররাজি গতকাল আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন: পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার সম্পূর্ণ কারিগরি দক্ষতা ইরানের রয়েছে যদিও এই অস্ত্র তৈরির কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান নেয় নি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে সাড়মরিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলার মতো ইসরাইলি ঔদ্ধত্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 ইরানের সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার কোনো আইনগত অধিকার ইসরাইলের নেই। কেননা তারা বিশ্বের সকল নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেছে। তারাই সেই ফিলিস্তিন দখলের সূচনা থেকে সামরিক উদ্দেশে পরমাণু শক্তি অর্জনের কাজ শুরু করেছে এবং ষাটের দশকের প্রথম দিকেই পরমাণু শক্তি অর্জন করেছে। কিন্তু তারা জাতিসংঘের রেজুলেশন কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো নীতিমালার তোয়াক্কা করে নি এখনও করছে না।

পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তারের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা যেন না থাকে সেই লক্ষ্যে তারা এনপিটি চুক্তি পর্যন্ত স্বাক্ষর করে নি। এমনকি তারা এখন পর্যন্ত তাদের পরমাণু স্থাপনা কাউকে পরিদর্শন করতেও দেয় নি।

পারমাণবিক শক্তি তাদের একচেটিয়া অধিকারে রাখার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইল কোন আরব দেশকে এমনকি যেই মিশর অবৈধ এই সরকারের সাথে শান্তি চুক্তি করেছিল-তাদেরকেও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি অর্জনের অনুমতি দেয় নি। উল্টো বরং তারা ইরাক এবং সিরিয়াসহ বহু আরব দেশে বোমা বর্ষণও করেছে। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে তাদের এই আধিপত্যবাদী চিন্তা কাজে লাগে নি। ইরান নিজস্ব প্রযুক্তি ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অর্জন করেছে। এ কারণেই ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে ইরানের ব্যাপারে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে লাভ হবে না, তাদের পরমাণু কর্মসূচি ঠেকানো যাবে না।

 আমেরিকাসহ পশ্চিমারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা করতে এগিয়ে এসেছে।  তারা যতোই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে, সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি আরোপ করে দেখেছে, কোনো লাভ হয় নি। তাদের সেইসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে নিজেরাই এখন স্বীকার করছে। তারা ঠিকই বুঝতে পারছে ইরান কখনোই ইরাক নয় যে একটি হামলা চালিয়েই পরমাণু কর্মসূচি শেষ করে দেবে। তবে জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য হামলার হুমকি বেড়ে গেছে।খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে  news