গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছে—এ ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে বলেছেন “বিশ্বের জন্য এক মহান দিন”।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“মিসরে সম্পন্ন হওয়া গাজার ‘জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির দিনটি বিশ্বের জন্য এক মহান দিন। এ বিষয়ে এখন পুরো বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ। ইসরায়েলসহ সব দেশ একসঙ্গে এসেছে। আজকের দিনটি সত্যিই অসাধারণ।”

তিনি আরও বলেন, “এটা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য আনন্দের দিন।”

এর আগে, ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট দিয়ে লেখেন—
“আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইসরায়েল ও হামাস—উভয়ই আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে রাজি হয়েছে। খুব শিগগিরই সব জিম্মিকে মুক্ত করা হবে, আর ইসরায়েল গাজা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে। এটি শক্তিশালী, টেকসই ও স্থায়ী শান্তির প্রথম পদক্ষেপ।”

এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, মিসরে চলমান ইসরায়েল-হামাস আলোচনায় চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন মধ্যস্থতাকারীরা। চুক্তি সম্পন্ন হলে তিনি নিজে মিসরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।

গত মাসে ট্রাম্প গাজা ইস্যুতে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যা উভয় পক্ষই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। এরপর সোমবার মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে শুরু হয় আলোচনা।

বুধবার ছিল আলোচনার তৃতীয় দিন। এদিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নেন—মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি, এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে জানান,
“উভয় পক্ষ গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের সব বিধান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে একমত হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধ হবে, ইসরায়েলি জিম্মিরা দেশে ফিরবে, ফিলিস্তিনি বন্দীরা মুক্তি পাবে এবং গাজায় খাদ্যসহ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১,২১৯ জন নিহত হন এবং ২৫১ জন জিম্মি করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৭ জন এখনও জিম্মি অবস্থায়, আর ২৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এদিকে, প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল সেই দিন থেকেই গাজায় ভয়াবহ হামলা চালায়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৭,১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০,১৭৯ জন শিশু।

এই প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি গাজা সংকটের ইতিহাসে এক মোড় ঘোরানো মুহূর্ত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

 

Walton Ads