পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারও সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। শনিবার রাতে আফগান সীমান্তরক্ষীরা ভারী অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র গুলিবিনিময়। দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে পরিস্থিতি এখন টানটান উত্তেজনায় ভরপুর।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, এর ঠিক একদিন আগে, শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী কাবুলে বিমান হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালী মেসুদ। এই হামলার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে এবং উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তালেবান সীমান্তরক্ষীরা পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে সীমান্তের একাধিক স্থানে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আফগান সেনাদের সামরিক যানবাহন সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, আর গুলির শব্দে কেঁপে উঠছে সীমান্ত এলাকা। আফগান সেনাদের দাবি, “আমরা কেবল পাকিস্তানের আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছি।”
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ১০ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী কাবুলের আকাশসীমা অতিক্রম করে পাকতিকার মার্ঘা এলাকার একটি বাজারে বোমা হামলা চালিয়েছে। আফগান মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, এটি “দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে নজিরবিহীন ও নিন্দনীয় ঘটনা।”
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও কাবুলে বিকট বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালী মেসুদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “টিটিপির নেতা কাবুলে ছিলেন না, পাকিস্তানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এই সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ।