পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ—ভুক্তভোগীর পরিবর্তে মমতা অপরাধীদের দায় এড়িয়ে মেয়েটিকেই দোষারোপ করছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, “ওটা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সে রাত সাড়ে ১২টায় বাইরে গেলো কীভাবে?”

যদিও তিনি ঘটনাটিকে “বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেন, তবুও মন্তব্য করেন যে, ওই এলাকার আশেপাশে বনাঞ্চল রয়েছে, তাই কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত রাতে বাইরে যাওয়া সীমিত রাখা। “নিজেদেরও সতর্ক থাকতে হবে,” যোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, “বেসরকারি কলেজগুলোর উচিত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি কড়া নজর রাখা এবং রাতের সংস্কৃতিতে নিয়ন্ত্রণ আনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব কলেজেরই।”

তবে মমতার এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি। দলের জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া এক্স (টুইটার)-এ লেখেন, “একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্ষণের শিকার নারীকেই দায়ী করছেন। আরজে কর মেডিক্যাল কলেজ, সাঁদেশখালি বা এখন দুর্গাপুর—প্রতিবারই তিনি অপরাধীর বদলে মেয়েদের আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন।”

আরেক মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবারই মেয়েদের দোষ দেন, আর ধর্ষকদের আড়াল করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না।”

তিনি কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, “নারী নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় সোচ্চার প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধী এবারও কি নীরব থাকবেন?”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএসের ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী শুক্রবার রাতে এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন। পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ফেলে, জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে।

ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। তদন্তে ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সমালোচকদের দাবি—মমতার বক্তব্য ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতির বদলে নারীর প্রতি দোষারোপের সংস্কৃতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।

 

Walton Ads