পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে আবারও ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। কাবুলের তালেবান প্রশাসন জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীর হামলাতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার সকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে জানান,

“আজ সকালে পাকিস্তানি সেনারা আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালায়। এতে ১২ জন বেসামরিক নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, পাল্টা হামলায় তালেবান যোদ্ধারা পাকিস্তানের বহু সেনাকে হত্যা করেছে, কয়েকটি সামরিক পোস্ট দখল করেছে, অস্ত্র ও ট্যাংক জব্দ করেছে, এবং বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংস করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তালেবানকেই দায়ী করা হয়েছে। চামান জেলার প্রশাসক হাবিব উল্লাহ বঙ্গুলজাই বলেন,

“তালেবান বাহিনী চামান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের একটি পোস্টে হামলা চালায়।”

তিনি জানান, সংঘর্ষটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে। পাকিস্তানি সেনারা শেষ পর্যন্ত পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তালেবানের হামলা প্রতিহত করে, তবে এতে চারজন বেসামরিক আহত হন।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার নাজুক শান্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক চরম টানাপোড়েনে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর সীমান্তের কয়েকটি ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে উভয় দেশ। এতে দুই পাশে শত শত ট্রাক আটকা পড়েছে, বাণিজ্য প্রায় থমকে গেছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানই আফগানিস্তানের প্রধান খাদ্য ও পণ্য সরবরাহকারী দেশ।

ঘটনাটিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। চীন দুই দেশকে নাগরিক ও বিনিয়োগ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে, রাশিয়া সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চাইলে এই সংঘাত মীমাংসায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।

 

Walton Ads