চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সেনাবাহিনীতে শুরু করেছে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। এই অভিযানের অংশ হিসেবে গুরুতর আর্থিক অপরাধের অভিযোগে নয়জন শীর্ষ জেনারেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন তিন তারকা জেনারেল এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই জেনারেলদের শুধু পার্টি নয়, সেনাবাহিনী থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, তারা দলীয় শৃঙ্খলা গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎসহ ভয়াবহ অপরাধে জড়িত।
যদিও সরকারি বিবৃতিতে বিষয়টি “দুর্নীতিবিরোধী অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের অংশও হতে পারে। কারণ, এই পদক্ষেপটি এসেছে দলের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ঠিক আগে, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হবে।
কারা বহিষ্কৃত হলেন
বহিষ্কৃত ৯ জন কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন—
হি ওয়েইডং, সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান
মিয়াও হুয়া, সিএমসির রাজনৈতিক কর্ম বিভাগের পরিচালক
হি হংজুন, রাজনৈতিক কর্ম বিভাগের নির্বাহী উপপরিচালক
ওয়াং শিউবিন, জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড সেন্টারের নির্বাহী উপপরিচালক
লিন জিয়াংইয়াং, পূর্ব থিয়েটার কমান্ডার
কিন শুটং, সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার
ইউয়ান হুয়াজি, নৌবাহিনীর রাজনৈতিক কমিশনার
ওয়াং হুবিন, রকেট ফোর্সের কমান্ডার
ওয়াং চুনিং, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কমান্ডার
এই তালিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী নাম হি ওয়েইডং, যিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঠিক নিচে সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। মার্চের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে দেখা দেননি, যা তার বিরুদ্ধে তদন্তের গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে।
দুর্নীতি নাকি ক্ষমতার লড়াই?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব কর্মকর্তাকে এখন সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে, এবং এই বহিষ্কারকে তারা “দলের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বড় অর্জন” বলে উল্লেখ করেছে।
গত জুলাইয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরের “বিষাক্ত প্রভাব দূর করতে” নতুন নির্দেশিকা জারি করেছিল সিএমসি। এর আগে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েই ফেংহে ও লি শাংফুসহ আরও কিছু কর্মকর্তাকে শুদ্ধিকরণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
বেসামরিক কর্মকর্তারাও রেহাই পাননি। উদাহরণ হিসেবে ২০২৩ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংয়ের নিখোঁজ হওয়া এবং তার উত্তরসূরি লিউ জিয়ানচাওয়ের দীর্ঘ অনুপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
বিশ্লেষকদের মন্তব্য
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো নীল থমাস বলেন, শি জিনপিংয়ের এই অভিযান আসলে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। তার ভাষায়, “শি দুর্নীতিগ্রস্ত বা অবিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের সরিয়ে পার্টিকে একটি পরিষ্কার ও শক্তিশালী সংগঠনে রূপ দিতে চান, যা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম।”
তবে থমাস সতর্ক করেন— এই শুদ্ধিকরণ ব্যবস্থাকে আরও ভয়ভীতিপূর্ণ ও কঠোর করে তুলতে পারে। “এতে সরকার আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, কিন্তু একই সঙ্গে আরও ভঙ্গুরও হতে পারে,” তিনি বলেন।
সব নজর এখন ২০ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টির চতুর্থ প্লেনামের দিকে, যেখানে বোঝা যাবে এই শুদ্ধিকরণ কতটা গভীরে গেছে।
commander fired, Wang Hubin expelled, China political reshuffle