ইতিহাসের এক অদ্ভুত অধ্যায় আজও জীবিত! ভারতের লখনৌয়ের নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারীরা আজও ব্রিটিশদের কাছ থেকে মাসিক পেনশন পাচ্ছেন, প্রায় দুইশো বছর পরেও। এই ভাতাটি পরিচিত 'ওয়াসিকা' নামে, যা একসময় রাজকীয় সম্মানের প্রতীক ছিল, আর এখন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী হয়ে আছে।
ঘটনার শুরু অষ্টাদশ শতাব্দীতে। নবাব সুজা-উদ-দৌলার স্ত্রী বহুবেগম ১৮১৭ থেকে ১৮২২ সালের মধ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মোট ৪০ মিলিয়ন রুপি ঋণ দিয়েছিলেন। এর বিনিময়ে কোম্পানি একটি চুক্তি করে যে, নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারীদের তারা নিয়মিত মাসিক ভাতা দেবে। ফার্সি ভাষায় এই চুক্তির নাম 'ওয়াসিকা'।
আজ, প্রায় ১,২০০ জন উত্তরাধিকারী এই ওয়াসিকা পেনশন পান। কিন্তু এর পরিমাণ শুনলে আপনি চমকে যাবেন। কারো কারো মাসিক পেনশন মাত্র ৯ টাকা ৭০ পয়সা! লখনৌয়ের পিকচার গ্যালারির সামনে ৯০ বছর বয়সী ফৈয়াজ আলী খান নিয়মিত এই ভাতা নিতে আসেন। তিনি বলেন, "এত অল্প টাকায় তো কিছুই হয় না, তাই আমি বছরে একবার এসে পুরো বছরের টাকাটা একসাথে তুলে নিই।"
এই ওয়াসিকার সর্বোচ্চ পরিমাণ একসময় ৫৬৯ রুপি ছিল, আর সর্বনিম্ন ছিল মাত্র ১ রুপি ১ পয়সা। প্রায় ২৬ লাখ টাকার একটি তহবিল ব্যাংকে জমা আছে, যার সুদ থেকে এই পেনশন দেওয়া হয়। প্রজন্মান্তরে উত্তরাধিকারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যেকের অংশ কমতে কমতে এখন নগণ্য পর্যায়ে চলে এসেছে।
এখন এই ওয়াসিকা অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে ঐতিহাসিক মর্যাদার প্রতীক। তবে এই প্রথা নিয়ে বিতর্কও আছে। কেউ কেউ এটিকে সামন্ততান্ত্রিক যুগের অবশিষ্টাংশ বলে মনে করেন। কিন্তু নবাব পরিবারের many সদস্যদের মতে, এটি শুধু টাকার ব্যাপার নয়, এটি ইতিহাসের প্রতি সম্মান ও একটি চুক্তির ধারাবাহিকতা।
সম্প্রতি নবাব পরিবারের এক সদস্য শহীদ আলী খান আদালতে যাচ্ছেন এই পেনশন পুনর্মূল্যায়নের জন্য। তাঁর দাবি, ওয়াসিকার পরিমাণ রুপিতে নয়, বরং রূপার বর্তমান বাজারমূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত। দুই শতাব্দী পরও এই ক্ষুদ্র অর্থপ্রদান ভারতের ঔপনিবেশিক অতীতের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে টিকে আছে।