চীনের বিশ্লেষক ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের চোখে ভারতই নেপথ্যে আফগানিস্তান–পাকিস্তান উত্তেজনার মূল খেলোয়াড়।
তাদের মতে, তালেবানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন এমন এক নতুন কৌশলগত অধ্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে আফগানিস্তান হয়ে উঠছে পাকিস্তানবিরোধী এক ‘গোপন হাতিয়ার’।

 চীনা বিশেষজ্ঞদের দাবি: ভারত-তালেবান ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে

চীনের জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন সরব আলোচনা—তালেবান প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির ভারত সফরই নেপথ্যে বড় ইঙ্গিত।
এই সফরের পর থেকেই পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ বেড়েছে, যা অনেক চীনা বিশ্লেষক ভারতের ভূমিকার সাথেই যুক্ত করছেন।

চায়না ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পোরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের গবেষক ওয়াং শিদা বলেন,

“মুত্তাকির সফর দেখাচ্ছে, ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। এটি সরাসরি সহযোগিতা নয়, তবে ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠতার দিকেই যাচ্ছে।”

জয়শঙ্কর-মুত্তাকির করমর্দন ঘিরে বিতর্ক

একজন চীনা ভাষ্যকার মন্তব্য করেন,

“ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর করমর্দন আসলে পাকিস্তানের প্রতি এক ধরনের সতর্কবার্তা।”

চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনও দাবি উঠেছে যে, ভারত এখন কাবুলকে ব্যবহার করছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ‘কৌশলগত অস্ত্র’ হিসেবে।
বিশেষত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে সম্প্রসারণ রুখতে ভারত নেপথ্যে সক্রিয়।

 “ভারত-তালেবান স্বার্থের মিল পাকিস্তানে” — লিউ জোংই

সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পরিচালক লিউ জোংই বলেন,

“ভারত ও তালেবানের স্বার্থের সংঘাত কিংবা মিল—দুটোই এখন পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত। পাকিস্তান যেন দুই শক্তির মধ্যে আটকে পড়া এক স্যান্ডউইচ।”

তবে কিছু ভাষ্যকার মনে করেন, এই সম্পর্ক শুধুই ‘স্বার্থের’। দুই দশক ধরে ভারত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, জাতিসংঘে তাদের বৈধতার বিরোধিতা করেছে, এমনকি তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর সাহায্য বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু এখন ভারতের অবস্থান বদলেছে—চীন ও পাকিস্তানকে মোকাবিলা করতেই তালেবান কার্ড খেলছে নয়াদিল্লি।

 ওয়েইবো বিশ্লেষণ: তালেবানের “হেজিং কৌশল”

ফিনিক্স টিভি এবং চীনা সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েইবোতে বলা হচ্ছে,
তালেবানরা এখন ভারতকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন,

“ভারতীয় কূটনীতিকরা জানুয়ারি থেকেই তালেবানের সঙ্গে সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জয়শঙ্কর-মুত্তাকির বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।”

 সংঘাতের গভীরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি

চীনা ভাষ্যকাররা এই সংঘাতকে “সীমান্ত সংঘর্ষ” নয়, বরং একটি আঞ্চলিক ক্ষমতার লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
তাদের মতে,

“ভারত সরাসরি যুদ্ধে নামতে পারছে না, তাই আফগানিস্তানকে ব্যবহার করছে প্রক্সি হিসেবে।”

একজন বিশ্লেষক আরও যোগ করেন,

“আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের ছয়দিন পরই সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়। এটি নিছক কাকতাল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের ইঙ্গিত।”

🇺🇸 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নেপথ্যে?

কিছু চীনা গবেষক মনে করেন, পাকিস্তানি বিমান হামলায় ব্যবহৃত ‘রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স’ হয়তো মার্কিন উপগ্রহ থেকেই এসেছে।
চায়না ইনস্টিটিউট অফ আমেরিকান স্টাডিজের ঝাং ঝিক্সিন বলেন,

“আমেরিকা আবার আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী, যাতে চীন ও রাশিয়া ওই শূন্যস্থান পূরণ করতে না পারে।”

“আফগানিস্তান কি ভারতের প্রক্সি?” — চীনা প্রশ্ন

চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো পাকিস্তানি অবস্থানকেই জোরদার করছে।
‘অবজারভার’ পত্রিকা লিখেছে,

“ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্ক পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনাকে আরও গভীর করতে পারে। কাবুল কি ভারতের প্রক্সিতে পরিণত হচ্ছে?”

 চীনের উপসংহার

চীনা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় এখন সবচেয়ে বড় বিঘ্নকারী শক্তি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
তাদের মতে, এই দুই দেশ মিলে আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করছে, যা চীনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য “গুরুতর হুমকি”।

 

Walton Ads