গাজায় শান্তিরক্ষী পাঠাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসি সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে গাজায় শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ নিতে প্রস্তুত কুয়ালালামপুর।
রবিবার ৬ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৪৭তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আনোয়ার এই ঘোষণা দেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কুয়ালালামপুর ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য সংগ্রামের প্রতি তাদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আইসিজে রায়কে সমর্থন জানায় মালয়েশিয়া।
আইসিজে রায়ে বলা হয়, গাজায় মানবিক সহায়তা অবরোধ করে ইসরাইলি সরকার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
আসিয়ানের নেতৃত্বে শান্তি প্রচেষ্টা
বৈঠকে আনোয়ার ইব্রাহিম ও আন্তোনিও গুতেরেস আসিয়ানের সভাপতির দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং মিয়ানমারে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপকে উৎসাহিত করা বিষয়গুলো।
গাজা যুদ্ধবিরতি ও বাস্তব চিত্র
মার্কিন মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় ১০ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গাজার বাস্তবতা এখনো ভয়াবহ।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ৬৬ হাজার টন বিস্ফোরণহীন গোলাবারুদ পড়ে আছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
প্রতিদিনই এই অনিরাপদ গোলাবারুদের ঝুঁকিতে রয়েছেন হাজারো মানুষ। শিশুরা ধ্বংসস্তূপে খেলার সময় বহুবার প্রাণ হারিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও গাজা এখনো এক অঘোষিত বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে।
মালয়েশিয়ার শান্তিরক্ষী পাঠানোর প্রস্তাবকে অনেকেই গাজায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।