মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড বা স্থায়ী বসবাসের permit পাওয়া অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। আমেরিকার ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এর এজেন্টরা একযোগে তদন্ত চালিয়ে এমন সব অভিবাসীদের গ্রিনকার্ড বাতিল করছেন, যারা ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে এই সুবিধা নিয়েছিলেন। আর এই তালিকায় নাম আছে কমপক্ষে দুই হাজার বাংলাদেশির!
গত ২৮ ফেব্রুয়ারার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের পরই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। 'অভ্যন্তরীণ দুর্বৃত্তদের কবল থেকে আমেরিকানদের রক্ষা' শীর্ষক সেই আদেশের আওতায় এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার গ্রিনকার্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে।受影响 ব্যক্তিদের কাছে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে নোটিশ টু অ্যাপিয়ার (এনটিএ), যাতে করে তারা তাদের নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে হাজির হতে বাধ্য হবেন।
কেন বাতিল হচ্ছে গ্রিনকার্ড?
ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র মাথিউ ট্র্যাগেসার জানান, যারা মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। তিনি বলেন, "এই অসৎ ব্যক্তিরা শুধু ব্যবস্থাকেই অপদস্থ করেনি, বরং দেশের সামাজিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছেন।"
এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয় সাধারণত তখনই, যখন কেউ গ্রিনকার্ড পাওয়ার পাঁচ বছর পর আমেরিকান নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আগের সব তথ্য আবারও খুব গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। আর তখনই ধরা পড়ে যায় পূর্ববর্তী সময়ে জমা দেওয়া ভুয়া তথ্য।
বাংলাদেশিদের কী হচ্ছে?
আমেরিকা সুপ্রিম কোর্টে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান আইনজীবী মঈন চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন, "বাংলাদেশে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা দাবি করে, বা মিথ্যা নির্যাতনের গল্প বলে অনেকেই গ্রিনকার্ড পেয়েছিলেন। এখন সেগুলোই রিকল করা হচ্ছে।"
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এনটিএ পাওয়ার পর সেই গ্রিনকার্ডটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এমনকি কারো হাতে সক্রিয় গ্রিনকার্ড থাকলেও, ফেরার সময় এয়ারপোর্টেই তাকে গ্রেফতার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে। তার মতে, যারা এনটিএ পেয়েছেন, তাদের উচিত হবে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির শরণাপন্ন হওয়া।
কতজন আক্রান্ত হচ্ছেন?
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, টেক্সাস, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১,৮৪০ জনের কাছে এনটিএ ইস্যু করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলের তুলনায় বর্তমানে এই এনটিএ ইস্যুর হার বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। এনটিএ প্রাপ্তদের মধ্যে ৯০%ই হচ্ছেন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী।