পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার নাইজার প্রদেশের একটি গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। হামলাকারীরা গ্রামের বাজারে আগুন দেয়, দোকান লুটপাট করে এবং বেশ কয়েকজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই নৃশংস ঘটনায় পুরো গ্রাম আতঙ্কে কেঁপে উঠেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) কাসুওয়ান দাজি গ্রামের কাছে একটি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায়। তারা স্থানীয় বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং দোকান থেকে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় ঠিক কতজন মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। বিবিসি হাউসা সার্ভিসকে এক স্থানীয় সাংবাদিক জানান, বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে চড়ে আসে এবং অস্ত্রের মুখে মানুষজনকে জড়ো করে। এরপর তাদের অনেকের গলা কেটে এবং অনেককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এই ধরনের সশস্ত্র অপরাধী দলগুলো স্থানীয়ভাবে ‘ডাকাত’ নামে পরিচিত। নাইজেরিয়ায় এমন হামলা ও অপহরণের ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে গেছে।

নাইজার স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির এক কর্মকর্তা আবদুল্লাহি রোফিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "গ্রামবাসীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে।"

নাইজার প্রদেশের পুলিশ মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানিয়েছেন, আহতদের সাহায্যের জন্য জরুরি দল পাঠানো হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।

পশ্চিম আফ্রিকার সরকারগুলো এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং তাদের কাছে মুক্তিপণ দেওয়াও আইনত নিষিদ্ধ করেছে। তবে অনেক সময়ই এই নিয়ম উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, গ্রামে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আমরা মুরগির মতো মরছি। সরকার কি আমাদের নিয়ে ভাবছে? তারা সব দেখছে, শুনছে, কিন্তু কিছু করছে না। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কী করতে পারি?"

মজার ব্যাপার হলো, এই হামলার মাত্র এক দিন আগেই নাইজার প্রদেশে ধাপে ধাপে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনার পর জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন ঘটনার পর সেই সিদ্ধান্ত কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

news