মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইরান দেশের ভেতরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান শিথিল করতে রাজি নয়। সোমবার ইরানি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো রকম ছাড় বা নরমতা দেখানো হবে না, যদিও তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার মেনে নিয়েছে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, চলমান সহিংস বিক্ষোভে যদি আরও প্রতিবাদী নিহত হয়, তাহলে তেহরানকে 'খুব কঠোরভাবে আঘাত' করা হবে। এই হুমকির পরপরই ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই দেশজুড়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাদের নির্দেশ দিয়েছেন অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।
শুরুতে অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ক্রমেই রাজনৈতিক দাবির দিকে মোড় নিয়েছে। মিজান সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহসেনি এজেই বলেন, "আমি দেশের সর্বত্র অ্যাটর্নি জেনারেল ও প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দিচ্ছি—আইন অনুযায়ী দৃঢ়তার সঙ্গে দাঙ্গাকারী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং কোনো ধরনের ছাড় বা শিথিলতা না দেখাতে।"
তিনি অবশ্য এটাও বলেন যে, ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কথা শোনে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ও দাঙ্গাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করে।
কতটা বিস্তৃত বিক্ষোভ?
বার্তা সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের মোট ৩১টি প্রদেশের মধ্যে কমপক্ষে ২৩টিতেই এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রায় ৪৫টি শহরকে কম-বেশি প্রভাবিত করেছে। সরকারি বিবৃতি ও গণমাধ্যমের খবর বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই অস্থিরতা মূলত দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বেশি এবং বেশিরভাগ সমাবেশই ছিল ছোট বা মাঝারি আকারের।
এভাবেই অভ্যন্তরীণ কঠোরতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে ইরান, যেখানে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এখনও ম্লান হয়নি।
