ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত এখন আর গোপন নেই। দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত ‘কৌশলগত ধৈর্য’ আর সীমিত পাল্টা হামলার নীতি থেকে সরে এসে তেহরান এবার আরও আক্রমণাত্মক ও সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে গঠিত ডিফেন্স কাউন্সিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরান আর শুধু হামলার পর জবাব দেবে না; শত্রুপক্ষের আক্রমণের প্রস্তুতির আভাস পেলেই আগাম আঘাত হানবে।
ইরানের নীতিনির্ধারকদের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘বেআইনি ও উসকানিমূলক’ কর্মকাণ্ডের জবাবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংযত থাকার অধ্যায় শেষ। অতীতে ইরান মূলত সামরিক স্থাপনাকেই লক্ষ্য করত এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি এড়াতে সচেষ্ট ছিল। তবে নতুন রণকৌশলে সেই সীমারেখা আগের মতো কঠোর থাকবে না—এমন ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে মিলছে।
এই কৌশলগত পরিবর্তনের বার্তা মিলেছে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির সাম্প্রতিক বক্তব্যেও। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনারাই হতে পারে প্রথম লক্ষ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ করে লারিজানি বলেন, ট্রাম্পের হঠকারী সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হতে পারে আমেরিকান সেনাদেরই—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সচেতন হওয়া দরকার।
সব মিলিয়ে, ইরান এখন একটি স্পষ্ট ‘চূড়ান্ত লড়াইয়ের’ বার্তা দিচ্ছে। যার মূল লক্ষ্য—ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন থেকে স্থায়ীভাবে নিরুৎসাহিত করা।
