ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তেহরানের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে 'হত্যার' হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন।

মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেটর গ্রাহাম এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম সরাসরি খামেনিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "যদি ইরানের সরকার উন্নত জীবনের দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়া জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে, তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।"

গ্রাহাম আরও বলেন, ইরানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে এবং তিনি বর্তমান সরকারের সাথে 'নাৎসি শাসনব্যবস্থা'-র তুলনা করেন। তার দাবি, চলমান বিক্ষোভ শুধু ক্ষোভ নয়, বরং ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একই সাথে তিনি ইরানের জনগণের জন্য বলেন, "সহায়তা আসছে।"

কেন বিক্ষোভ?

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশীয় মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড পতনের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং কোথাও কোথাও সহিংসতাও হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে খামেনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে বিক্ষোভকারীদের অনেক দাবিই ন্যায্য। তবে তিনি একইসাথে সতর্ক করে দিয়েছেন যে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতা সহ্য করা হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতাদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছিলেন যে তেহরান যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়, তাহলে ওয়াশিংটন তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

এসব ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে গেছে।

 

news