ইয়েমেনের চলমান সংঘাত বন্ধের উদ্যোগের মধ্যে ঘটে গেল এক নাটকীয় মোড়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরব যাননি। বরং তিনি এক অজানা গন্তব্যে ‘পালিয়ে’ গেছেন বলে দাবি করেছে সৌদি-সমর্থিত জোট।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ আনা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে গত মাসে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাত থামানোর চেষ্টার মধ্যেই জুবাইদির এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনায় উপসাগরীয় মিত্রদেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার লুকানো দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে আসতে পারে।
এর আগে, ইয়েমেন সরকার দক্ষিণাঞ্চলের সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য রিয়াদে একটি বৈঠকের আয়োজন করে। সেই আলোচনায় অংশ নিতেই জুবাইদির সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল।
কী ঘটেছিল?
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, জুবাইদি মঙ্গলবার রাতে ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী এডেন থেকে রিয়াদের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাসহ একটি বিশেষ বিমান প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তার জন্য অপেক্ষা করার পরও তিনি হাজির হননি। শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়াই বিমানটি রিয়াদের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর থেকে জুবাইদির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে পাওয়া কিছু তথ্য বলছে, জুবাইদি হয়তো বড় আকারের কোনো সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তিনি বর্তমানে ঠিক কোথায় আছেন, তা এখনো রহস্য।
জোটে ফাটল
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে মতবিরোধের কারণে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একসময় গঠিত জোট কার্যত ভেঙে পড়েছে। তবে হুথিরাই এখনো ইয়েমেনের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে টিকে আছে।
উল্লেখ্য, হুথিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর জবাবে পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।
এখন জুবাইদির এই অদৃশ্য হওয়া পুরো ইয়েমেন সংকটে নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।
