ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশ্নে ইউরোপীয় দেশগুলোর নীরবতা ও অস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান। পত্রিকাটির মতে, ইউরোপের এই নীরবতা শুধু অনৈতিক নয়, বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে কার্যত আত্মসমর্পণের শামিল।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান লিখেছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ভয়াবহ কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউরোপের নীরবতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ কার্যত মেনে নেওয়ার পর এবার ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও ইউরোপ একই ধরনের কৌশলগত ভুলের পথে হাঁটছে।
গার্ডিয়ানের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইউরোপীয় নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট ও অস্বচ্ছ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। এতে করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে উপনিবেশিক মনোভাব নিয়ে আচরণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে ইউরোপ নিজেরাই তাদের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কেবল স্পেন এবং কয়েকটি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টসহ কয়েকজন নেতা শুধু সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করেছেন। আবার ইতালির প্রধানমন্ত্রীসহ কিছু ইউরোপীয় নেতা ট্রাম্প প্রশাসনের এই হামলাকে ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপের এই নীরবতার পেছনের কারণও বিশ্লেষণ করেছে গার্ডিয়ান। পত্রিকাটির মতে, ট্রাম্পের ক্ষোভের আশঙ্কা, ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ভয়, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য হুমকি, এবং ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়িয়ে রাশিয়ার তেল আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশলগত স্বার্থ—সব মিলিয়েই ইউরোপকে নীরব থাকতে বাধ্য করছে।
