ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এসব বিকল্পের মধ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ডেনমার্ক উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করে আসছে ডেনমার্ক। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক নেতা ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তার এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে তা ন্যাটোর অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
ন্যাটোর মূল নীতির একটা হলো—কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রমণের শিকার হলে সেটাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য সামরিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দল গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে সবসময় সামরিক শক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
একই দিনে ইউরোপের ছয়টি মিত্র দেশ ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়া অন্য কারও নেই। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে সম্মানজনক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
