সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিনজা নগরীতে সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে সামরিক ও স্বাস্থ্য সূত্র জানিয়েছে।
রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সিন্নার রাজ্যের রাজধানী এই সিনজা শহর। এটা একটি কৌশলগত সড়কের পাশে অবস্থিত, যা জাতীয় রাজধানীকে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সাথে যুক্ত করে।
এই হামলা ঘটেছে ঠিক তখন, যখন পূর্বাঞ্চলীয় নগরী পোর্ট সুদানে প্রায় তিন বছর কার্যক্রম চালানোর পর সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বড় অভিযানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী সিনজা দখলমুক্ত করলেও এটি দীর্ঘদিন সংঘাতমুক্ত ছিল। সেই অভিযানের সূত্র ধরে পরবর্তীতে খার্তুমও সেনাবাহিনীর দখলে আসে।
এক সামরিক সূত্র জানিয়েছে, আরএসএফের ড্রোনগুলো সিনজায় সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, এই হামলায় আরও ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর এক সূত্র এএফপিকে জানায়, একাধিক পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক চলার সময়ই সদর দফতরে এই হামলা চালানো হয়।
রাজ্যের যোগাযোগ দফতর জানায়, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তবে তার দেহরক্ষী ও প্রটোকল প্রধান নিহত হয়েছেন।
সিনজার এক বাসিন্দা জানান, তিনি বিস্ফোরণের শব্দ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবর্ষণের আওয়াজ শুনেছেন।
উল্লেখ্য, সিন্নার এই অঞ্চল সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসেও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ দেশের ভেতরে ও বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও একটি ভয়াবহ খাদ্য সংকট তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিন্নার পুনর্দখলের পরবর্তী এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ আবারো রাজ্যটিতে ফিরে এসেছেন। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাদের ফিরতে হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর দিকে আরএসএফ যোদ্ধারা খার্তুম দখল করে নেওয়ায় কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। গত বছর সেনাবাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১২ লাখ মানুষ ধীরে ধীরে খার্তুমে ফিরেছেন।
পুনর্গঠন কার্যক্রম চললেও, আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা এখন দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা মাঝে মধ্যেই সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এলাকার অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। সেনাবাহিনী ও তাদের সরকার দেশের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।
অন্যদিকে, আরএসএফ বিশাল পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে আধিপত্য বজায় রেখেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল দিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য খার্তুমের কাছাকাছি সহায়ক শহরগুলো দখল করা।
একাধিক শহর আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধে থাকায় কোরদোফানে কয়েক লাখ মানুষ এখন চরম দুর্ভিক্ষের মুখে। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে 'নৃশংসতার যুদ্ধ' আখ্যা দিয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে।
