২০২৬ সালে রমজান মাস কবে থেকে শুরু হবে—এই নিয়ে জ্যোতির্বিদরা সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে দিয়েছেন। যেসব দেশ চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান ঘোষণা করে, সেখানে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মরক্কো, মৌরিতানিয়া এবং আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি হবে শাবানের ২৯তম দিন। ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষণ আর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে এসব দেশে রমজান শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি অথবা শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি।
আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪৭ হিজরির রমজানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদদের মতে, ওই দিন আরব ও মুসলিম বিশ্বের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপ দিয়েও নতুন চাঁদ দেখা সম্ভব নয়। তাই চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান ঘোষণা করা দেশগুলোতে পবিত্র মাস শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ধরা হচ্ছে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি।
আন্তর্জাতিক চাঁদ দৃশ্যমানতার সব মানদণ্ড অনুযায়ী মঙ্গলবার সূর্যাস্তের সময় চাঁদ নতুন অবস্থান থেকে এতটাই কাছে থাকবে যে কোনোভাবেই দৃশ্যমান হবে না। এই সিদ্ধান্ত একাধিক গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতিতে একই রকম এসেছে—যেমন ইবনে তারিক, ফাদারিংহাম, মন্ডার, ব্রুইন, মোহাম্মদ ইলিয়াস, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যোতির্বিদ কেন্দ্র, ইয়ালপ ও ওদেহ পদ্ধতি। সব বিশ্লেষণেই বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরব বিশ্ব বা বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বে কোথাও চাঁদ দেখা অসম্ভব।
ফলে চাঁদ দেখার সাক্ষ্যের ওপর নতুন মাস শুরু হয় এমন দেশে বুধবার শাবানের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং বৃহস্পতিবার রমজান শুরু হবে। তবে কিছু দেশ ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করে একদিন আগে, অর্থাৎ বুধবার থেকেই রমজান ঘোষণা করতে পারে—যদিও এমন দেশের সংখ্যা কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, মরক্কো, মৌরিতানিয়া এবং আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি শাবানের ২৯তম দিন। ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে রমজান শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি বা শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি।
জ্যোতির্বিদদের মতে, বুধবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি অনেক বেশি অনুকূল থাকবে। তখন আরব বিশ্বের অধিকাংশ এলাকায় খালি চোখেই চাঁদ দেখা সম্ভব হবে, যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে।
১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আশপাশের দেশ থেকে রমজানের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা প্রায় নেই। আইএসসি পরিচালক মুহাম্মদ শওকত ব্যাখ্যা করেছেন—ওই দিন সন্ধ্যায় ইসলামি বিশ্বের পূর্বাঞ্চলে সূর্যের আগেই চাঁদ অস্ত যাবে, মধ্যাঞ্চলে সূর্যের সঙ্গে একই সময়ে এবং পশ্চিমাঞ্চলে সূর্যাস্তের মাত্র কয়েক মিনিট পর। এত স্বল্প সময় চাঁদের সংযোগ অবস্থা থেকে দৃশ্যমান চিকন চাঁদে রূপ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।