ইরানে দ্রুত বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি ও টানা চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নতুন করে নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশের পর এই সতর্কবার্তা আবারও জোরালোভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, এই নির্দেশনা প্রথম জারি করা হয়েছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। পরে ৬ ফেব্রুয়ারি সেটি হালনাগাদ করা হয়। তাদের মতে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরাসরি সহায়তার ওপর নির্ভর না করেন। কারণ তেহরানে বর্তমানে কোনো মার্কিন দূতাবাস নেই, ফলে কনস্যুলার সেবা অত্যন্ত সীমিত। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষায়, “পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে যত দ্রুত সম্ভব ইরান ত্যাগ করুন।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানজুড়ে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলছে। সামনে সহিংসতা বাড়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাসও সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে বিদেশিদের জন্য ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।

সতর্কবার্তায় সম্ভাব্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, সড়ক বন্ধ, গণপরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং ইন্টারনেট ও ফোন সেবায় কঠোর নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ইরানে ফ্লাইট কমিয়েছে বা পুরোপুরি স্থগিত করেছে, ফলে দ্রুত দেশ ছাড়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

খবরে আরও বলা হয়, এই সতর্কতা একেবারে নতুন কিছু নয়। প্রথম নির্দেশনা জারি হয়েছিল ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তা হালনাগাদ করা হয়। অনলাইনে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—কেউ সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা করছেন, আবার কেউ এটিকে নিয়মিত নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবেই দেখছেন।

দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের (ডুয়াল ন্যাশনাল) নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ ইরান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না এবং এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার সহায়তাও প্রদান করে না। ফলে মার্কিন পাসপোর্ট থাকলেও তারা আইনি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই মার্কিন নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকদের ‘ভুলভাবে আটক’ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি কারও কাছে মার্কিন পাসপোর্ট পাওয়া গেলেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক করা হতে পারে।

এ ছাড়া ইরাক ও আফগানিস্তান হয়ে স্থলপথে ইরান ছাড়ার বিষয়েও নিরুৎসাহিত করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তাদের মতে, এসব পথ নিরাপদ নাও হতে পারে এবং এতে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ উপায়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে।

 

news