মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার ঘটি গ্রামে এখন চলছে এক ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা। মাত্র কয়েকদিন আগে এক হিন্দু সম্মেলনে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে কঠিন বয়কটের খড়গ।
গ্রামের সালিশ বসিয়ে ১০টি মুসলিম পরিবারকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্পষ্ট নির্দেশ—কোনো হিন্দু এই পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলবে না, ব্যবসা করবে না, কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখবে না। যারা এই নিয়ম ভাঙবে, তাদের ৫,০০০ টাকা জরিমানা আর সামাজিক বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই ১০টি পরিবার পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ব্যবসা বন্ধ, কাজ নেই, দোকানে জিনিস বিক্রি হয় না, এমনকি প্রতিবেশীরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জীবন যেন থমকে গেছে।
পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শান্তি কমিটির মাধ্যমে মধ্যস্থতা হয় এবং বয়কট তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় মুসলিমদের মনে এখনও গভীর ভয় আর অসন্তোষ রয়ে গেছে। খাইরুন্নিসা নামের এক বাসিন্দা কষ্ট নিয়ে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শুধু প্রতিবাদ করেছিলাম।
তার জন্য আমাদের পুরো জীবন দুর্বিষহ করে দেওয়া হয়েছে। পুরুষরা বেকার বসে ছিলেন, যাদের সঙ্গে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাশাপাশি বাস করছি, তারাই হঠাৎ আমাদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে।”
স্থানীয় সাংবাদিকরা এবং সাবেক বিধায়ক কিশোর সামরি প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্তরের তদন্ত দাবি করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর ক্রমবর্ধমান তৎপরতার কারণে ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখন বড় সংকটের মুখে। এই মুসলিম পরিবারগুলোর প্রশ্ন খুবই যৌক্তিক— “বয়কট তো তুলে নেওয়া হলো, কিন্তু আমাদের ক্ষতি কি মুছে গেছে? যারা এই ঘৃণা ছড়িয়েছে, তাদের বিচার না হলে আবার কীভাবে এমন ঘটনা বন্ধ হবে? এর গ্যারান্টি কী?”
