জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কমিটি উত্তর কোরিয়ায় মানবিক সহায়তা প্রকল্পে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ এলো, যখন দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মধ্যে রয়েছে।
বর্তমানে উত্তর কোরিয়ায় ইউনিসেফসহ বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন এনজিও মিলিয়ে মোট ১৭টি মানবিক প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। নতুন এই ছাড় কার্যকর হলে এসব সংস্থা সহজেই পুষ্টি সম্পূরক খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা সরবরাহ করতে পারবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান,
“রাজনৈতিক বিষয় আলাদা রেখে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, উত্তর কোরিয়া এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবে।”
এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে আবারও জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে অটল রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রকল্পে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে আগেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শিগগিরই ক্ষমতাসীন দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেস আয়োজন করতে যাচ্ছেন। জানা গেছে, এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম কংগ্রেস। ওই কংগ্রেসকে সামনে রেখে তিনি দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো ও আধুনিকীকরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
জাতিসংঘের এই ছাড় কার্যকর হলে উত্তর কোরিয়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে করে দীর্ঘদিনের খাদ্য সংকট মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নতুন আশা দেখা দিয়েছে।
