ওমানে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও পারমাণবিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই বৈঠককে “ভালো শুরু” বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, শিগগিরই পরবর্তী দফার আলোচনা হবে।
ওমানে আজকের এই বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তারা সরাসরি মুখোমুখি না হয়ে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কথা বলেছেন। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার পথ খোলা রাখা কূটনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
আরাঘচি বলেন, এই সংলাপ গঠনমূলক ছিল। যদি এই ধারা বজায় থাকে, তাহলে একটা কার্যকর কাঠামোর দিকে এগোনো সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকির রাজনীতি চালালেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার পথেই ফিরতে হয়েছে—এমনটাই মনে করছেন তেহরানের পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অর্থায়ন বিল নিয়ে সিনেটে আলোচনা সপ্তাহান্তেও চলবে বলে জানিয়েছেন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসন সংস্থা আইসিই–সংক্রান্ত কিছু সংস্কার দাবিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাব বিবেচনা করতে রাজি আছেন। তবে কিছু দাবি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও সাফ জানানো হয়েছে।
জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির একটি নির্বাচন কার্যালয়ে বিতর্কিত তল্লাশিতে গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প তার ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি, শুধু বলেছেন—“তিনি সেখানে ছিলেন, আমরা আলাদা নই।”
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে একটি বর্ণবাদী ভিডিও শেয়ার করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। ভিডিওটিতে ওবামা দম্পতিকে বর্ণবাদীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
পরে এটি মুছে ফেলা হয়। সিনেটের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান সদস্য টিম স্কট এই ভিডিওকে “হোয়াইট হাউস থেকে দেখা সবচেয়ে বর্ণবাদী বিষয়” বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সব মিলিয়ে একদিকে ওমানে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা নতুন করে শুরু হওয়ার পথে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
