ইরান কূটনীতির পথেই এগোতে চায়, কিন্তু কোনো চুক্তি হলে সেটা হতে হবে একদম ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ আর পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি একদম খোলাখুলি বলে দিয়েছেন—ইরানের অধিকার, মর্যাদা আর সম্মান কখনোই আলোচনার টেবিলে তোলা যাবে না!
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা সম্ভব—যদি চুক্তিটা দেশের বৈধ স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা করে। তার কথায়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান নিজের জাতীয় সার্বভৌমত্ব অটুট রাখবে—এখানে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

ইসলামী বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এই বিশাল জনসমাগমের কথা টেনে আরাঘচি বলেন, এটাই প্রমাণ করে ইরানের জনগণ জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতার প্রশ্নে একদম এক। অনেক বিশ্লেষক এই বিপ্লবকে “বিশ শতকের শেষ বড় বিপ্লব” বলে উল্লেখ করেন—সেটাও তিনি মনে করিয়ে দেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে গত এক বছরে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছে ইরান। নজিরবিহীন চাপ, নিরাপত্তা হুমকি আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মুখেও মাথা নত করেনি দেশটি। আরাঘচির মতে, পশ্চিমা চাপ আর শত্রু রাষ্ট্রগুলোর চেষ্টা সত্ত্বেও ইরান টিকে আছে শুধু জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন আর রাষ্ট্র-জাতির দৃঢ় সম্পর্কের জোরে—কোনো বিদেশি শক্তির দয়ায় নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসছে বছরটা যেন শান্তি ও স্থিতিশীলতার বছর হয়। বিশ্বে সংঘাতের বদলে সংলাপই এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এই বক্তব্য এসেছে সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মুস্কাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনার পর। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় হওয়া এই বৈঠককে আরাঘচি “ইতিবাচক সূচনা” বলে বর্ণনা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি জানিয়েছেন, পরবর্তী দফা আলোচনার সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ চলছে, যাতে সামনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়।
সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট—তেহরান কূটনীতির দরজা বন্ধ করছে না। কিন্তু জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে ইরান কোনোভাবেই আপস করবে না। বিশ্বশক্তিদের উদ্দেশে ইরান আরও একবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিল!

 

news