আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম তীরে আবারও রক্তপাত আর উত্তেজনা! নাবলুস জেলার তালফিত শহরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে। স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সেনারা সংবাদদলকেও লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়েছে।

উত্তর-পূর্ব রামাল্লার কাফর মালিক শহরে অভিযানের সময় নামাজ আদায়কারীদের ওপরও টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল মসজিদের প্রবেশপথের কাছে হামলা চালিয়েছে বলে ফিলিস্তিনি সূত্র দাবি করেছে।

হামাস এক বিবৃতিতে এসব ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক আগ্রাসন’ বলে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, নাবলুসের তালফিতসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর হামলায় সম্পদ ধ্বংস, গুলি চালানো এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। হামাসের অভিযোগ—বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের নীতির কারণেই পশ্চিম তীরের শহর, গ্রাম ও শরণার্থী শিবিরে সহিংসতা বেড়ে চলেছে।

হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ, আরব লীগ এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—এসব ঘটনার নিন্দা জানান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। সংগঠনটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে এবং জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এদিকে ফরেন পলিসি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে—পশ্চিম তীর ভবিষ্যতে পশ্চিম এশিয়ার নতুন অস্থিরতার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, গাজায় চলমান সংঘাত, লেবাননে হিজবুল্লাহর পুনরায় সক্রিয়তা এবং সিরিয়ার পরিস্থিতির কারণে পশ্চিম তীরের দিকে তুলনামূলক কম নজর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেখানকার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ‘তুফান আল-আকসা’ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি বেড়েছে, চেকপোস্টের সংখ্যা বেড়েছে এবং বিশেষ করে শরণার্থী শিবিরগুলোতে অভিযান জোরদার হয়েছে। একইসঙ্গে বসতি স্থাপন ও নতুন আউটপোস্ট বৈধ করার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়েছে। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে।

ফরেন পলিসি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এমন কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে যা বসতি সম্প্রসারণকে আরও সহজ করবে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেছেন, এসব নীতির লক্ষ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে প্রতিহত করা।
আন্তর্জাতিক মহলে এখন উদ্বেগ বাড়ছে—নেতানিয়াহুর নীতি কি পশ্চিম তীরকে নতুন সংঘাতের আগুনের কেন্দ্র বানিয়ে দিচ্ছে?

 

news