মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে। একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা এগোনোর ইঙ্গিত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা—দুই মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকের প্রতিবাদ সত্ত্বেও “সরকার বদলানো” বা রেজিম চেঞ্জ সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, শিগগিরই “অসাধারণ শক্তি” মধ্যপ্রাচ্যে স্থাপন করা হবে।

এই মন্তব্যের পরপরই পেন্টাগন নিশ্চিত করে, প্রথম রণতরী USS Abraham Lincoln-এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী। বিশ্লেষকদের অনেকে একে “ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল” হিসেবে দেখছেন।

এই পদক্ষেপ এমন সময় এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান পারমাণবিক বিরোধিতা নিয়ে আলোচনায় কিছু অগ্রগতির সম্ভাবনা খুঁজছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, আলোচনা শুধু পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং মানবাধিকার ইস্যুতেও বিস্তৃত হোক।

ফোর্ট ব্র্যাগে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলেছে। আমরা এখন ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।” তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি বদলাতে হলে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়, তবে তারা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। ফলে শান্তি আলোচনার পাশাপাশি সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরী মোতায়েনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ফাইটার জেট ও নজরদারি বিমানসহ সামরিক শক্তি জোরদার করেছে। এতে স্পষ্ট বার্তা—কূটনীতির পাশাপাশি শক্তির প্রদর্শনও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত কৌশল—একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে চাপ—শান্তির পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এখন প্রশ্ন একটাই: আলোচনার টেবিলে সমাধান মিলবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে?

 

news