পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ফেরালেন খামেনি! উল্টো মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন নেভাতে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন? পড়ুন উত্তেজনার পুরো আপডেট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইরানের রাজি হওয়ার সম্ভাবনা শূন্য বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, চাপ ও হুমকি দিয়ে ইরানকে নিজেদের শর্তে আনতে পারছে না ওয়াশিংটন।
আরেক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইতিহাস বলছে তেহরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ নয়। অর্থাৎ বহু চেষ্টা করেও ইরানকে নিজেদের শর্তে আনতে পারেনি আমেরিকা—এটাই বাস্তবতা।
নেতানিয়াহু কী বললেন ট্রাম্পকে?
এর আগে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে সফরের সময় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একই কথা বলেন। তিনি ট্রাম্পকে জানান, ইরানের সঙ্গে ভালো কোনো চুক্তি করা সম্ভব নয়। এমনকি চুক্তি হলেও ইরান তা মেনে চলবে না বলেও দাবি করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে আমেরিকাকে উসকানি দিয়ে আসছে।
এদিকে ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে চুক্তি না হলে ইরানের ওপর হামলা হতে পারে। অর্থাৎ আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন?
এমন পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই অভিযান শুরু করবে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে ওই দুই কর্মকর্তা তাদের নাম প্রকাশ করেননি। কারণ এতে চলমান কূটনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিপুল যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। যা স্পষ্টভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের কঠোর জবাব
অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও নিরাপদ থাকবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যেই এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না তেহরান।
ওমানে গোপন বৈঠক
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু করতে গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা বৈঠক করেছেন। তবে একই সময়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সব ধরনের অপশন খোলা আছে।
আলোচনা নাকি যুদ্ধ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন একই সাথে আলোচনা ও যুদ্ধের পথ খোলা রেখেছে। ইরানকে ভয় দেখিয়ে চুক্তিতে আনতে চাইছে তারা। কিন্তু তেহরান বারবার জানিয়ে দিয়েছে, চাপের কাছে মাথা নত করবে না তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে এখন বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আগামী কয়েক দিন ইরান-মার্কিন সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
