দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্ক, পাল্টাপাল্টি হুমকি আর নিষেধাজ্ঞার রাজনীতি—সবকিছুর পর হঠাৎ করেই বদলাতে শুরু করেছে কূটনৈতিক ভাষা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই: এই পরিবর্তনে কে এগিয়ে, আর কে চাপে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগ্রহ দেখালেও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা—ট্রাম্পকে কি কার্যত ‘পাত্তা’ই দিলেন না খামেনি? অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইরানের এই নীরব অবস্থানই উল্টো আমেরিকার ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য পরিষ্কার—তারা নতুন একটি পারমাণবিক সমঝোতা চায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় রাজি হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গেও বসতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, দেশগুলোর একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেই হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। যে তেহরান এতদিন কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও নতি স্বীকার করেনি, তারা কি এত সহজে শীর্ষ বৈঠকে রাজি হবে? অনেকের মতে, বাস্তবতা হলো—এই মুহূর্তে আলোচনার প্রয়োজনটা হয়তো বেশি আমেরিকারই।
ওমানের মধ্যস্থতায় প্রথম পর্ব, সামনে জেনেভা?
এ মাসের শুরুতে ওমান-এর মধ্যস্থতায় মাস্কাট-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনা ছিল শুধুই পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে এবং এতে কোনো ‘হুমকি বা চাপ’ ছিল না।
আন্তর্জাতিক সূত্র বলছে, দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে জেনেভা-তে। এতে স্পষ্ট, নিজেদের অবস্থানে অটল থেকেও কূটনৈতিকভাবে এগোচ্ছে তেহরান।
একদিকে আলোচনার হাতছানি, অন্যদিকে কড়া হুঁশিয়ারি
তবে একইসঙ্গে ট্রাম্পের কড়া বার্তাও সামনে এসেছে। চুক্তি ব্যর্থ হলে ইরানের জন্য “খুব কঠিন ফলাফল” অপেক্ষা করছে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
একদিকে সরাসরি বৈঠকের আগ্রহ, অন্যদিকে কঠোর হুমকি—এই দ্বৈত কৌশলকে অনেকেই দেখছেন আমেরিকার পুরনো চাপ প্রয়োগের রাজনীতি হিসেবে। অতীতে এই কৌশল খুব একটা সফল হয়নি বলেও মত বিশ্লেষকদের।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন সূক্ষ্ম এক কূটনৈতিক লড়াই। খামেনির নীরবতা কি কৌশলগত বার্তা? নাকি সময়ের অপেক্ষা? আর শেষ পর্যন্ত—মাথা নত করবে কে?
