পারস্য উপসাগর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়া হতে পারে। আর এই মন্তব্যের পরই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা।
‘চপেটাঘাতে সেরে উঠতে পারবে না’
তেহরানে এক অনুষ্ঠানে খামেনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ বলে দাবি করেন। তার সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই খামেনির এই কড়া বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
খামেনি আরও বলেন, “রণতরী অবশ্যই বিপজ্জনক যন্ত্র। কিন্তু তার চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা রণতরীকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।”
২৪ ঘণ্টায় ৫০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন
4
উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে অন্তত ৫০টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক F-35, F-22 ও F-16 স্টিলথ ফাইটার জেট। কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এমন সামরিক প্রস্তুতি যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford দ্রুত এ অঞ্চলে পাঠানো হবে। তার ভাষায়, “যদি কোনো রফায় আসতে না পারি, তবে আমাদের এটির প্রয়োজন হবে।”
এর আগেই উত্তেজনা বাড়ার পর বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পরমাণু আলোচনা ও হরমুজে মহড়া
খামেনি চলমান পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, আলোচনার ফল আগে থেকেই নির্ধারণ করে ফেলা ‘ভুল ও বোকামি’।
এদিকে মার্কিন সামরিক তৎপরতার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। মহড়ার অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য সমুদ্রপথের একটি অংশ বন্ধও রাখা হয়।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে।
বড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত?
পেন্টাগনের এই বিশাল সমর প্রস্তুতিকে অনেকে তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান যদি পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতায় না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে রেখেছে।
সব মিলিয়ে, পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। কূটনীতি জিতবে, নাকি সংঘাত—উত্তর মিলবে সময়ই।
