কথায় আছে, 'পাপীর বিনাশ হয় নিজের অহংকারে।' আজ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সেই বিনাশের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে আমেরিকার অত্যাধুনিক রণতরী, অন্যদিকে ইরানের অকুতোভয় ঈমানি শক্তি। ট্রাম্প কি আসলেই জানেন তিনি কার সাথে পাঙ্গা নিচ্ছেন? আজকের ভিডিওতে আমরা উন্মোচন করবো কীভাবে ইরানের একটি মাত্র গোপন অস্ত্র আমেরিকার দামী যুদ্ধজাহাজগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে প্রস্তুত!

কথায় আছে, 'পাপীর বিনাশ হয় নিজের অহংকারে।' আজ এই প্রবাদটি যেন আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতির সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। আসসালামু আলাইকুম দর্শক, স্বাগতম আমাদের আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন উত্তাল ঢেউ খেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার স্বভাবসুলভ ঔদ্ধত্য নিয়ে ইরানের দিকে যুদ্ধের আঙুল তুলছেন। কিন্তু ইরান কি আগের মতো চুপ থাকবে? কক্ষনোই না।

খবর পাওয়া যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর এক বিশাল সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাতক বাহিনী জড়ো করতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের শত্রুতা মেটাতে আমেরিকা এবার তাদের সবচাইতে শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড' পাঠাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে, ইরানের সমুদ্রসীমা কোনো খেলার মাঠ নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদীদের কবরস্থান।

ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প খুব রহস্যজনকভাবে বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর পতন ঘটানোর দিবাস্বপ্ন দেখছেন। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, ইরানকে যারা ধমক দিতে এসেছে, তারা নিজেরাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ট্রাম্পের এই ১০ দিনের সময়সীমা কি তার নিজের পতনের কাউন্টডাউন?

এদিকে ইরানও কিন্তু বসে নেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে এক হাত নিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার বলেছেন, আমেরিকা রণতরী পাঠাচ্ছে পাঠাক, কিন্তু মনে রাখা উচিত সেই রণতরীকে সমুদ্রের নিচে পাঠানোর মতো ভয়ঙ্কর অস্ত্র ইরানের হাতে তৈরি আছে। ইরানের এই অকুতোভয় মনোভাব সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জাগাচ্ছে।

এই পুরো নাটকের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে কুখ্যাত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি উন্মুখ হয়ে আছেন কখন আমেরিকা ইরানের ওপর হামলা করবে। ইসরায়েল চায় ইরান যেন তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আত্মরক্ষার অধিকার তাদের আছে এবং কোনো অপশক্তির কাছে তারা মাথা নত করবে না, ইনশাআল্লাহ।

আমেরিকা যতই বীরত্ব দেখাক না কেন, তাদের সাধারণ সেনারা কিন্তু বেশ আতঙ্কে আছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কারণ তারা জানে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল যদি একবার লক্ষ্যভেদ শুরু করে, তবে মার্কিন সেনাদের পালানোর জায়গাটুকুও থাকবে না। ট্রাম্পের জেদ মেটাতে গিয়ে হাজার হাজার আমেরিকান সেনার প্রাণ যাবে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, যদি যুদ্ধ বাঁধে তবে তা শুধু ইরান আর আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো মধ্যপ্রাচ্য দাউদাউ করে জ্বলে উঠবে। এতে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমেরিকা নিজেই। তেলের বাজারে ধস নামবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। অথচ ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত ইগোর কারণে পুরো বিশ্বকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

ইরান বছরের পর বছর ধরে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের সামরিক শক্তিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাদের হাতে আছে এমন সব ড্রোন এবং মিসাইল প্রযুক্তি যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম। জর্ডান এবং বুলগেরিয়ার ঘাঁটিগুলোতে আমেরিকা যুদ্ধবিমান মজুদ করলেও ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে কোনো সময় সেগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

ট্রাম্প এর আগে ভেনিজুয়েলা বা ইয়েমেনে ছোটখাটো অভিযান চালিয়ে নিজেকে জয়ী মনে করতে পারেন। কিন্তু ইরান কোনো ছোট দেশ নয়। ইরানের পেছনে রয়েছে জনগণের সমর্থন এবং দীর্ঘদিনের বিপ্লবী চেতনা। আমেরিকার সাবেক সামরিক কর্মকর্তারাই বলছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করা সহজ কিন্তু শেষ করা অসম্ভব। এটি ট্রাম্পের জন্য এক মরণফাঁদ হতে যাচ্ছে।

নেতানিয়াহু ভাবছেন আমেরিকার কাঁধে বন্দুক রেখে ইরানকে ঘায়েল করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ শুরু হলে প্রথম আঘাতটি পড়বে ইসরায়েলের হৃদপিণ্ডে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথিরা ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলবে। তখন আমেরিকা চাইলেও তার পরম বন্ধুকে রক্ষা করতে পারবে না। অন্যায়ের দেয়াল এবার ভাঙার সময় এসেছে।

হোয়াইট হাউস থেকে বলা হচ্ছে তারা আলোচনার পথ খোলা রেখেছে, কিন্তু তাদের আচরণ বলছে উল্টো কথা। ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার কেড়ে নিতে চায় তারা। অথচ ইরান বারবার বলেছে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ট্রাম্পের ধৈর্য কম, আর এই ধৈর্যহীনতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। সত্যের জয় সবসময়ই হয়, আর ইরান এখন সত্যের পথে অবিচল।

বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ এখন আমেরিকার এই দাদাগিরির বিরুদ্ধে সোচ্চার। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব দেখছে কীভাবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশকে ধ্বংস করার নীল নকশা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ইরানের সাহসী নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে যে, ঈমানি শক্তি থাকলে যে কোনো সুপারপাওয়ারকে হাঁটু গেড়ে বসানো সম্ভব। আমরা কি তবে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা দেখতে যাচ্ছি?

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। এই সফর যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে তাদের মিসাইল সাইলোর মুখ খুলে রেখেছে। যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল একটি ভুল কদম ফেলে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে অনেক কিছুর নাম মুছে যেতে পারে। ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় এখন পারস্য উপসাগর।

সময়ের ব্যবধানে ট্রাম্পের এই আস্ফালন যে তার নিজের জন্যই কাল হবে, তা বলাই বাহুল্য। ইরান লড়াই করতে জানে, আর যারা লড়াই করতে জানে তাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না। আমেরিকার এই অন্যায্য যুদ্ধের হুমকি আসলে তাদের নিজেদের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। ইরান জয়ী হবে, আর ইনশাআল্লাহ সত্যের পতাকা আবারও বিশ্বজুড়ে সগৌরবে উড্ডীন হবে।

আজকের প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগলো? আপনি কি মনে করেন ইরান আমেরিকার এই ঔদ্ধত্যের যোগ্য জবাব দিতে পারবে? আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

news