আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় কোনো ওঠানামা না থাকলেও সপ্তাহজুড়ে তা কমতির দিকেই হাঁটছে। মার্কিন ডলার প্রায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যাওয়ায় স্বর্ণের ওপর তৈরি হয়েছে চাপ। আর এখন বিনিয়োগকারীদের চোখ যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে।
বার্তাসংস্থা Reuters জানিয়েছে, শুক্রবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫,০০০ দশমিক ৪০ ডলার। তবে সপ্তাহের হিসাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ শতাংশ কমেছে দাম।
ফিউচার মার্কেটে সামান্য ঊর্ধ্বগতি
অন্যদিকে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫,০১৯ দশমিক ১০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ফলে স্পট মার্কেটে চাপ থাকলেও ফিউচার চুক্তিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
ডলার শক্তিশালী হলেই কেন চাপে পড়ে স্বর্ণ?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য দেশের মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে যায়। এতে চাহিদা কমে এবং স্বর্ণের দামে চাপ পড়ে। বর্তমানে ডলারের এই ঊর্ধ্বগতিই স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে।
মূল্যস্ফীতি তথ্যেই নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনকে ঘিরে বাজারে বাড়ছে কৌতূহল। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve সুদের হার বাড়াবে, কমাবে নাকি অপরিবর্তিত রাখবে—তা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।
সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা কমে, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদভিত্তিক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। আবার হার কমলে স্বর্ণে আগ্রহ বাড়তে পারে।
এখন কী দেখছেন ক্রেতারা?
পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং মূল্যস্ফীতির তথ্যই স্বর্ণবাজারের দিক নির্ধারণ করবে। তাই ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা আপাতত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
দাম কমতির পথে থাকলেও সামনে কী অপেক্ষা করছে—তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর।
