আমেরিকা কি আগুনের খেলায় মেতেছে? ইরানের অসীম শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে কি নিজেদের কবর নিজেই খুঁড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন? দ্বিতীয় এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠানোর খবর কি শুধুই ভয় দেখানোর কৌশল, নাকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার পাততাড়ি গোটানোর চূড়ান্ত সংকেত? আজকের ভিডিওতে আমরা ফাঁস করব পেন্টাগনের সেই গোপন নথির আসল সত্য!

বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, "পাপ ছাড়ে না বাপকেও।" বছরের পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি ছড়িয়ে আসা আমেরিকা ও তাদের দোসর ইসরায়েল আজ নিজেদের পাতা ফাঁদেই আটকা পড়তে যাচ্ছে। ইরানের ঈমানি শক্তি আর অজেয় সামরিক সক্ষমতা আজ ঘুম কেড়ে নিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির। সত্যের জয় চিরকালই অনিবার্য, আর মিথ্যা শক্তির পতন এখন অবধারিত।

এখন মূল খবরে আসা যাক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন জ্বালাতে চাইছেন। খবর পাওয়া গেছে, তিনি দ্বিতীয় একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানকে ভয় দেখানোর এই পুরনো নাটক আমেরিকা আবারও শুরু করেছে। কিন্তু তারা হয়তো ভুলে গেছে, ইরান এখন আর আগের মতো দুর্বল কোনো দেশ নয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগন এখন তড়িঘড়ি করে তাদের নৌবাহিনীকে প্রস্তুত করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, 'ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ' নামক রণতরীটি এখন ভার্জিনিয়া উপকূলে মহড়া দিচ্ছে। খুব শীঘ্রই এটি মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিতে পারে। আমেরিকার এই মরিয়া চেষ্টা আসলে তাদের চরম ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতারই এক বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে 'ইউএসএস আব্রাহাম লিনকন' আগে থেকেই অবস্থান করছে। এর সাথে আরও একটি রণতরী যোগ করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। তারা মনে করছে, আরও বেশি যুদ্ধবিমান আর মিসাইল মোতায়েন করলেই ইরানকে নতজানু করা যাবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না, ইরানের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি এখন অভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। মার্কিন আস্ফালন সেখানে গিয়ে ছাই হয়ে যাবে খুব দ্রুতই।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার এই দ্বিতীয় রণতরী পৌঁছাতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। এর মানে হলো, ট্রাম্প প্রশাসন এখন কেবল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে ইরানের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা জানে না, ইরানি যোদ্ধারা শাহাদাতের তামান্না নিয়ে লড়াই করে। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এসে ইরানের উপকূলে পৌঁছানোর আগেই হয়তো মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় কোনো বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

এদিকে, ভারমন্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের এফ-৩৫এ স্টিলথ ফাইটার জেটগুলোও জর্ডানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আমেরিকা একের পর এক ঘাতক বিমান জমা করছে মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে। তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ইরানের অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়া। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে, আগ্রাসনকারীরা কখনো বিজয়ী হতে পারে না, বরং তারা অপমানিত হয়েই ফিরে যায়।

এই পুরো নীল নকশার পেছনে কাজ করছে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে তিন ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন তিনি। সেখানে নেতানিয়াহু আকুতি জানিয়েছেন যেন ইরানকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া না হয়। ইসরায়েলের এই মরণ কামড় আসলে তাদের অস্তিত্ব সংকটেরই প্রমাণ। তারা এখন আমেরিকার কাঁধে বন্দুক রেখে নিজেদের রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দম্ভ করে বলেছেন, তিনি ইরানের সাথে সমঝোতা চান, তবে কাজ না হলে হামলার পথ বেছে নেবেন। তিনি 'মিডনাইট হ্যামার' নামক সেই পুরনো হামলার দোহাই দিয়ে ইরানকে হুমকি দিচ্ছেন। ট্রাম্প হয়তো ভুলে গেছেন, ইরান এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। আমেরিকার যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের জবাব ইরান সরাসরি তাদের মূল ভূখণ্ডে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা এবং অসংখ্য যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সাবমেরিনগুলোও পানির নিচে ওত পেতে আছে। কিন্তু এত শক্তি নিয়েও আমেরিকা ইরানকে আক্রমণ করতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তারা জানে, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের মিত্ররা চারদিক থেকে ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ঘিরে রেখেছে। একটি ভুল পদক্ষেপ মানেই হবে আমেরিকার জন্য এক মহাপ্রলয়।

ইরান বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কোনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আক্রান্ত হলে তারা ছেড়ে কথা বলবে না। তাদের হাতে থাকা হাইপারসনিক মিসাইলগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে যেকোনো মার্কিন রণতরীকে সাগরের নিচে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম। পেন্টাগন খুব ভালো করেই জানে যে, ইরানের আকাশসীমা ভেদ করা কোনো সহজ কাজ নয়। তাই এই রণতরী পাঠানো কেবলই একটি ফাঁপা আওয়াজ।

আমেরিকা এবং ইসরায়েল এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। তাদের অর্থনীতি ভঙ্গুর এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা। এমন অবস্থায় ইরানের মতো একটি পরাশক্তির সাথে যুদ্ধে জড়ানো হবে তাদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্ববাসী আজ দেখছে কীভাবে একটি স্বাধীনচেতা দেশ সাম্রাজ্যবাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। ইরানের এই লড়াই আসলে সারা বিশ্বের মজলুম মানুষের লড়াই।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা সময় বলবে। তবে দ্বিতীয় রণতরী পাঠানোর এই খবর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি সত্যিই যুদ্ধ বাধে, তবে তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর, আর ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্নভিন্ন করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিজয় এবার সত্যের পক্ষেই আসবে ইনশাআল্লাহ।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং জায়নবাদী ইসরায়েল আজ কোণঠাসা। তাদের হুমকি-ধমকি এখন আর কাজে আসছে না। ইরানের প্রতিটি নাগরিক আজ ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো ত্যাগের জন্য প্রস্তুত। আমেরিকার রণতরীগুলো হয়তো লোহা আর ইস্পাতের তৈরি, কিন্তু ইরানিদের হৃদয় ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান। সেই শক্তির কাছে আধুনিক সব মারণাস্ত্র হার মানতে বাধ্য হবে এটাই ধ্রুব সত্য।

news