মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় মোড়। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সিরিয়ায় থাকা অবশিষ্ট মার্কিন সেনাদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

ওই কর্মকর্তা জানান, সিরিয়ার সরকার নিজেদের সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে। তাই সেখানে বড় আকারে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন।

২০১৫ সাল থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। ইসলামিক স্টেট বা Islamic State (আইএস)-এর উত্থান ঠেকাতেই এই মোতায়েন।

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই সিরিয়া থেকে সেনা ফেরানোর প্রস্তুতির খবর সামনে এলো।

আইএসের উত্থান থেকে অভিযান

সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ-এর আমলে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে আইএস দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে তথাকথিত খেলাফত ঘোষণা দেয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৪ সালে সিরিয়ায় প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ইতোমধ্যে একটি সেনাদল ফিরেছে এবং একটি ঘাঁটি সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পেন্টাগনের বার্তা: হুমকি পুরোপুরি শেষ নয়

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা The Wall Street Journal-কে জানিয়েছেন, আইএস এখনো বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো আইএস হুমকির জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী।

তার মতে, আইএসের উত্থানের সময় সিরীয় সরকারকে সহায়তা করতে সেনা পাঠানো হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল, আর আইএসের হুমকিও আগের মতো শক্তিশালী নয়—এই বিবেচনাতেই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত।

কূটনৈতিক যোগাযোগ ও নতুন সমীকরণ

গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে যান আল-শারা। দেশটির ইতিহাসে কোনো সিরীয় নেতার এ ধরনের সফর ছিল প্রথম।

এদিকে আসাদের পতনের পর সিরিয়ার সরকারি বাহিনী মাঝে মাঝে স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী কুর্দি-নেতৃত্বাধীন Syrian Democratic Forces-কে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। এখন দেখার, উত্তেজনার এই সময়ে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

 

news