দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প। বিদ্রোহের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট Yoon Suk Yeol। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) Seoul Central District Court এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।
বার্তাসংস্থা Reuters জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সামরিক আইন জারির চেষ্টা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ইউনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রসিকিউটররা তার জন্য মৃত্যুদণ্ড চাইলেও আদালত শেষ পর্যন্ত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে দেশটিতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৯৭ সালে।
সামরিক আইন জারি নিয়ে বিতর্ক
এর আগে জানুয়ারিতে প্রসিকিউশন জানায়, ইউনের ঘোষিত ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ জরুরি সামরিক আইন’ জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এতে দেশের উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেনা সদস্যদের সংসদ ভবনে পাঠিয়ে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের আটক করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
ইউনের দাবি: ‘সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেছি’
৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই প্রসিকিউটর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সামরিক আইন জারির সাংবিধানিক ক্ষমতা তার ছিল। বিরোধীদলের ‘অবরোধমূলক রাজনীতি’র বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কড়া নিরাপত্তায় রায় ঘোষণা
রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে ছিল কড়া নিরাপত্তা। ইউনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট আটটি মামলার বিচার চলছে। এর আগে জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে আলাদা একটি মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি ইতোমধ্যে আপিল করেছেন।
বর্তমানে তিনি সিউল ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। নতুন এই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম বিচার ছয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আপিলসহ পুরো প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া
দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান প্রেসিডেন্ট Lee Jae-myung সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, জনগণের প্রতিরোধের কারণেই গণতন্ত্র রক্ষা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এটা সম্ভব হয়েছে কারণ এটি ছিল কোরিয়া প্রজাতন্ত্র।”
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে এই রায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন সবার চোখ আপিল প্রক্রিয়ার দিকে।
