মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দেশ ইয়েমেনে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢোকার চেষ্টা করেছে বিদ্রোহীরা। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের প্রধান ফটকে এই ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত একদল বিক্ষোভকারী প্রাসাদে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার প্রমাণ দিচ্ছে।
ঘটনার সময় দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন আল-জিন্দানির নেতৃত্বে এই বৈঠক আল-মাশিক প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সাবা জানায়, বৈঠকের সময় প্রাসাদের বাইরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। অর্থাৎ বৈঠক চলাকালীনই বাইরে চলছিল সংঘাতের আগুন।
এডেন গভর্নরেটের সিকিউরিটি কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে প্রাসাদ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী আইনসম্মত ভাবে ব্যবস্থা নেয়। তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার কোনো প্রচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
তবে এসটিসি দাবি করেছে, গুলিতে সরকারি হিসেবে বলা ১১ জনের চেয়েও বেশি—অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বিরুদ্ধে 'পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের' অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসি ২০১৭ সালে গঠিত একটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন করে আসছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অভিযানে তারা এডেনসহ দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। সেই পরাজয়ের জের ধরে বর্তমান এই উত্তেজনা।
শুক্রবার এসটিসি নবগঠিত ইয়েমেনি সরকারের বৈধতা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এডেনে সরকারের উপস্থিতি 'জনসমর্থনহীন একটি বাস্তবিক কর্তৃত্ব' মাত্র। তারা আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে ইয়েমেনের অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেন ধারাবাহিক সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আরব বিশ্বের দরিদ্র এই দেশটিতে এখন একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাবের লড়াই চলছে।
