আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেলবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-এর সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করতে চেয়েছিল পাকিস্তান সরকার—তাও একবার নয়, দু’বার! এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর ঘনিষ্ঠ ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তাঁর কথায়, দুইবারই ইমরান সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বুধবার এক অনুষ্ঠানে ইমরান প্রসঙ্গে মুখ খোলেন সানাউল্লাহ। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইসলামাবাদে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত বিবৃতি দেন শরিফ সরকারের মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার। তিনি স্পষ্ট জানান, ইমরান খানের সঙ্গে কোনও রকম চুক্তি বা সমঝোতা হচ্ছে না, সরকার এমন কিছুর পক্ষপাতীও নয়।
সমাজমাধ্যমে আত্তাউল্লাহ লেখেন, ইমরান খানকে কোনও সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সরকার তাঁকে কোনও ছাড় দিচ্ছে—এমন খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। তাঁর দাবি, ইমরান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তিনি একজন অপরাধী।
তবে ঠিক কী বলেছিলেন রানা সানাউল্লাহ? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “আমরা ইমরানের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান চাই। কিন্তু তিনি তা চান না।” তিনি আরও জানান, ইমরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল দু’বার এবং দুই ক্ষেত্রেই তা ব্যর্থ হয়েছে।
সানাউল্লাহ জানান, প্রথম প্রচেষ্টা হয় ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর। সে সময় মন্ত্রী মহসিন নকভি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুর ইমরানের কাছে সরকারের প্রস্তাব নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও সমাধান মেলেনি।
দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেন কয়েক জন বিদেশি প্রতিনিধি। প্রথমে ইমরান প্রস্তাবে রাজি হলেও পরে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান বলে দাবি সানাউল্লাহর। তাঁর আরও বক্তব্য, বর্তমান সরকারকে গদিচ্যুত করে আবার প্রধানমন্ত্রী হতে চান ইমরান। সেই কারণেই তিনি কোনও সমঝোতায় যেতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অগস্টে লাহর থেকে গ্রেফতার হন ইমরান খান। তারপর থেকেই তিনি জেলবন্দি। পরিবারের দাবি, জেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁদের কথায়, ইমরান তাঁর ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ইসলামাবাদের হাসপাতালে তাঁর চোখের চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে জেলের ভিতরে তাঁর উপর অত্যাচারের অভিযোগও তুলেছে পরিবার।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই আবহে পাকিস্তানের রাজনীতি আবারও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। সমঝোতার প্রস্তাব, অস্বীকার, পাল্টা বিবৃতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
