মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কা! প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর আরোপ করা বিস্তৃত বাণিজ্য শুল্কের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে Supreme Court of the United States। ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ৬-৩ ভোটে দেওয়া এই রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ক বাতিল করে দিয়েছেন বিচারপতিরা।

এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” অর্থনৈতিক কর্মসূচির মূল ভিত্তির ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কোন আইনে শুল্ক, কেন বাতিল?

ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) এর আওতায় এসব শুল্ক আরোপ করেছিল। এর মধ্যে ছিল বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানির ওপর ১০% শুল্ক। পাশাপাশি চীন, কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক বসানো হয়েছিল।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে—আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে সরাসরি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এমনকি “বিদেশি জরুরি অবস্থা” থাকলেও কংগ্রেস কখনও নির্বাহী বিভাগকে এত বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়নি বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রক্ষণশীল বিচারপতিরাও গেলেন বিপক্ষে

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি এমন একটি বড় মামলা, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল বিচারপতিরাও তিনজন উদারপন্থী বিচারপতির সঙ্গে একমত হয়ে তার নির্বাহী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক মহলেও রায়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অর্থনীতিতে কত বড় প্রভাব?

গত দুই বছরে এই শুল্ক থেকে ফেডারেল সরকারের আয় হয়েছে ১৩০ বিলিয়ন থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই অর্থের কিছু অংশ বাজেট ঘাটতি পূরণ, কর কমানো ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শুল্ক বাতিল হলে আগামী দশকে বাজেট ঘাটতি প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তবে অন্য চিত্রও আছে। এই সময় আমেরিকান ভোক্তাদের গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, পোশাক ও গাড়ির যন্ত্রাংশসহ নানা আমদানিকৃত পণ্যে বেশি দাম দিতে হয়েছে।

Yale University–এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে প্রতি আমেরিকান পরিবারকে বছরে প্রায় ১,৮০০ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে।

ট্রাম্পের সুরক্ষাবাদী সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে তিক্ত বাস্তবতা হলো—অনেক আমেরিকান ভোক্তা বেশি দামের দেশীয় পণ্যের বদলে তুলনামূলক সস্তা চীনা, ভিয়েতনামী বা মেক্সিকান পণ্যই বেছে নিয়েছেন।

আগেও একই অভিজ্ঞতা

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপের সময়ও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। কৃষক, গাড়ি নির্মাতা ও সাধারণ ভোক্তারা বাড়তি খরচ নিয়ে তীব্র অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি কিছু কৃষিভিত্তিক অঙ্গরাজ্যও ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির বিরোধিতা করেছিল।

বৈদেশিক নীতিতে কী বার্তা?

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের “কঠোর অর্থনৈতিক শক্তি” ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করেছে। ইতিহাস বলছে, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া “অর্থনৈতিক স্বাধীনতা” বা “জাতীয় নিরাপত্তা”র নামে অতিরিক্ত খরচ বহনে আমেরিকানরা খুব একটা আগ্রহী নন। ফলে আক্রমণাত্মক বাণিজ্য কৌশলেরও স্পষ্ট সীমা রয়েছে।

এখন কী করবে হোয়াইট হাউস?

ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে জানিয়েছে, কিছু শুল্ক পুনর্বহালের জন্য তারা বিকল্প আইনি পথ খুঁজবে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে এবং নতুন আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

এই রায়ের পর মার্কিন অর্থনীতি ও রাজনীতিতে কী নতুন সমীকরণ তৈরি হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

 

news