ফিলিস্তিনের গাজায় গত বছর যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সেটি প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ গেছে ১২ জন ফিলিস্তিনির।

গাজার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার খান ইউনিসে পুলিশের একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন সাধারণ পথচারী। অন্যদিকে গাজা সিটিতে পৃথক এক হামলায় নিহত হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আর উত্তর গাজার বেইত লাহিয়াতে একটি বাড়িতে বোমাবর্ষণে মারা গেছেন আরও দুইজন।

এসব হামলার ঘটনায় গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—বেসামরিক এলাকায় নিরাপত্তা ফেরাতে কাজ করা স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ওপর ইসরায়েলের হামলা বন্ধে তারা যেন হস্তক্ষেপ করে।

মন্ত্রণালয় জানায়, খান ইউনিসের হামলাটি এমন সময় চালানো হয়েছে যখন নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় কোনো এক মারামারি থামানোর চেষ্টা করছিল। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, বেসামরিক পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেভাবে চুপ করে আছে, সেটা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণার সমান। এ নীরবতা তাদের আরও অপরাধ করতে উৎসাহিত করছে—যেখানে আন্তর্জাতিক আইনে পুলিশ একটি সুরক্ষিত বেসামরিক প্রতিষ্ঠান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেটার ফলে কিছুটা কমেছিল ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের তীব্রতা।

কিন্তু স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৯৮৪ জন, আর আহত হয়েছেন ২ হাজার ২৩৫ জন।

শুধু এই সপ্তাহেই বুধবারের ইসরায়েলি হামলায় তিন শিশুসহ পাঁচজন প্রাণ হারান। আর পুরো যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে, আহত ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া আরও হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

news